২০২৬ বিশ্বকাপ সমাপ্তির পাঁচ সপ্তাহ কেটে গেলেও বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাকে ঘিরে দুর্নীতির নানা অভিযোগ থামছেই না। একের পর এক বিতর্কে যখন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো কোণঠাসা, ঠিক তখনই পুরোনো এক কেলেঙ্কারিতে এলো নতুন বিস্ফোরক তথ্য। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের সম্প্রচারস্বত্ব নিশ্চিত করতে ফিফার কর্মকর্তাদের মোটা অঙ্কের ঘুষ দেওয়ার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করে নিয়েছেন আর্জেন্টিনার দুই প্রভাবশালী মিডিয়া ব্যক্তিত্ব।
২০১৫ সালে উন্মোচিত হওয়া এক নজিরবিহীন দুর্নীতি পুরো ফুটবল বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। সেসময় ফিফা, উত্তর আমেরিকার ফুটবল সংস্থা (কনকাকাফ) এবং দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থার (কনমেবল) একাধিক টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক ও সম্প্রচারস্বত্ব বিক্রিতে বড় ধরনের আর্থিক কারচুপির প্রমাণ মেলে। ২০১৫ সালের ২৭ মে মার্কিন বিচার বিভাগের নির্দেশে সুইজারল্যান্ডের জুরিখের একটি বিলাসবহুল পাঁচতারা হোটেল থেকে ফিফার সাতজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে একযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ওই কেলেঙ্কারির জের ধরেই দীর্ঘদিনের ফিফা সভাপতি সেপ ব্লাটারকে পদত্যাগ করতে হয়। সেই বিশাল আর্থিক দুর্নীতির তদন্ত এখনো অব্যাহত রয়েছে।
তদন্তের অংশ হিসেবে এবার নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছেন আর্জেন্টিনার বিখ্যাত স্পোর্টস মার্কেটিং কোম্পানি ‘ফুল প্লে’-র স্বত্বাধিকারী পিতা-পুত্র হুগো জিনকিস ও মারিয়ানো জিনকিস। মার্কিন তদন্তকারী সংস্থার কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে তারা জানান, ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব এবং কোপা আমেরিকার মতো লোভনীয় টুর্নামেন্টগুলোর সম্প্রচারস্বত্ব নিজেদের আয়ত্তে রাখতে তারা বিভিন্ন সময়ে ফিফার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের লাখ লাখ মার্কিন ডলার ঘুষ দিয়েছেন।
দীর্ঘদিন আইনের মুখোমুখি থাকার পর এই দুই ব্যবসায়ী নিজেদের দোষ স্বীকার করে নিয়েছেন এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছেছেন। শাস্তির মাত্রা কমাতে এবং কারাদণ্ড এড়াতে তারা ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জরিমানা দিতে রাজি হয়েছেন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬০০ কোটি টাকা।
২০২৬ বিশ্বকাপের নানা ব্যবস্থাপনা ও আয়োজনের বেনিয়ম নিয়ে এমনিতেই সমালোচনার মুখে রয়েছে আন্তর্জাতিক ফুটবলের এই সর্বোচ্চ সংস্থা। এর মধ্যে ইনফান্তিনোর নেতৃত্বাধীন ফিফার ভাবমূর্তির ওপর এই দুই আর্জেন্টাইন কর্মকর্তার ঐতিহাসিক ঘুষের স্বীকারোক্তি নতুন করে বড় ধাক্কা দিল।


