খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 11শে চৈত্র ১৪৩২ | ২৫ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
কুষ্টিয়ার সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) পরিচালিত বিশেষ অভিযান থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। জব্দকৃত এলএসডি, ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট, ফেয়ারডিল সিরাপ ও অন্যান্য পণ্যের আনুমানিক বাজার মূল্য ৬ কোটি ২৬ লাখ ৮০ হাজার ৫৮৫ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি। এই অভিযান স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
বুধবার (২৪ মার্চ) দুপুরে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি একটি বিশেষ টহল দল মিরপুর রেলস্টেশন এলাকায় অভিযান চালায়। রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনে তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১২ বোতল ভারতীয় এলএসডি উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি বোতলে ৫০ মিলি এলএসডি ছিল। জব্দকৃত এই মাদকদ্রব্যের বাজার মূল্য প্রায় ৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা।
এর পাশাপাশি একই দিনে ভোরে পৃথক দুটি অভিযানে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ মাঠ এবং প্রাগপুর নদীর ঘাট এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট, ফেয়ারডিল সিরাপ ও পাতার বিড়ি জব্দ করা হয়। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, এই পণ্যগুলো চোরাচালানের উদ্দেশ্যে সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছিল।
| পণ্য | পরিমাণ | আনুমানিক বাজার মূল্য |
|---|---|---|
| এলএসডি বোতল | ১২ বোতল (প্রতিটি ৫০ মিলি) | ৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা |
| ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট | বিপুল পরিমাণ | আনুমানিক ১ লাখ টাকা |
| ফেয়ারডিল সিরাপ | বিপুল পরিমাণ | আনুমানিক ৫০ হাজার টাকা |
| পাতার বিড়ি | বিপুল পরিমাণ | আনুমানিক ৩০ হাজার টাকা |
বিজিবি কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের কমান্ডার জানান, “সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই ধরণের অভিযানের মাধ্যমে অপরাধীদের অব্যাহত কার্যক্রম সীমিত করা সম্ভব হচ্ছে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সীমান্ত এলাকার চোরাচালান ও মাদক প্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবির এই ধরণের অভিযান শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করেই থেমে থাকছে না, বরং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
কুষ্টিয়ার স্থানীয় প্রশাসন ও বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় আরও নজরদারি ও টহল বৃদ্ধি করা হবে। এছাড়া, অভিযানে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণকে সচেতন করার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
এই অভিযানের ফলে কুষ্টিয়া সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধের ক্ষেত্রে বিজিবির সক্ষমতা প্রমাণিত হলো, এবং এটি দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য এক উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।