খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৩ আগস্ট ২০২৫
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অচেতন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া তরুণীর বাড়ি ভোলা জেলার ধনিয়া ইউনিয়নে। তিনি ভোলার নাজিউর রহমান ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রি শ্রেণির ছাত্রী (বয়স ২১)। বর্তমানে নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর বাবা মো. ফিরোজ হোসেন।
গতকাল শনিবার থেকে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে তরুণীর ছবি ও তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রকাশ করে দাবি করা হয়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার সজীব পাম্পসংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেছেন স্থানীয়রা। পোস্টগুলোতে তরুণীর পরিচয় চেয়ে পরিবারকে খুঁজে পাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, তরুণী সম্প্রতি ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে ভাইয়ের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে মোটরসাইকেলে ঘুরতে বের হলে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আজ রবিবার সকালে তাঁকে ভোলায় নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন।
মেয়েটির বাবা বলেন, ‘আমার মেয়ে ঢাকায় ছেলের বাসায় বেড়াতে যায়। সেখান থেকে মোটরসাইকেলে ঘুরতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়। পরে পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখান থেকে আমার ছেলে গিয়ে তার বাসায় নিয়ে আসে। আজ রবিবার সকালে মেয়েকে ভোলায় নিয়ে আসা হয়েছে। সে বর্তমানে বাসায় মোটামুটি সুস্থ আছে।’
আজ সকালে ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম ধনিয়া গ্রামে মেয়েটির বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, তিনি আহত অবস্থায় বিছানায় শুয়ে আছেন। ব্যথায় কাতরাচ্ছেন। কথা বলতে পরছেন না। তাঁর হাতে ও হাঁটুতে ক্ষতের চিহ্ন দেখা গেছে।
মেয়েটির মা বলেন, ‘আমার মেয়ে ঘুরতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়। অথচ ফেসবুকে অনেকে বিভিন্ন মন্তব্য করে পোস্ট দেয়। এটা আমাদের জন্য লজ্জার বিষয়। মেয়ে ঘুরতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়।’
তাঁর বড় বোন বলেন, ‘আমরা দুই বোন ও আমাদের এক ভাইসহ তিনজন শুক্রবার বেলা ১টার দিকে মোটরসাইকেলে ঘুরতে যাই। যাত্রাবাড়ী থেকে গজারিয়া ঘুরতে যাওয়ার সময় ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আমরা তিনজনই মোটরসাইকেল থেকে সটকে পড়ি। এর মধ্যে আমার বোন জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে আমাদের দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করে।’
মেয়েটির আরেক ভাই ভোলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে চাকরি করেন। তিনি বলেন, ওরা তিনজন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
খবরওয়ালা/এসআই