খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
আজ ১০ ডিসেম্বর—ব্রিটিশবিরোধী ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক বীর, অথচ অবহেলিত নাম প্রফুল্ল চন্দ্র চাকীর জন্মদিন। ১৮৮৮ সালে বগুড়ার শিবগঞ্জের বিহারহাটে জন্ম নেওয়া এই তরুণ বয়স থেকেই বিপ্লবী চেতনায় দীক্ষিত ছিলেন। অগ্নিশিখার মতো দীপ্ত সেই চেতনা তাঁকে পরিণত করেছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে অন্যতম দুর্ধর্ষ অগ্রনায়কে।
বগুড়ার প্রত্যন্ত গ্রামে বেড়ে ওঠা প্রফুল্ল চাকীর মনে ছোটবেলা থেকেই ছিল স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা। ইংরেজ শোষণ দেখেই তাঁর ভিতর জন্মেছিল বিদ্রোহী মনোভাব। কৈশোরে গোপন বিপ্লবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি দ্রুতই হয়ে ওঠেন দলের সবচেয়ে সাহসী, নির্ভীক যোদ্ধাদের একজন।
১৯০৮ সালে ব্রিটিশ বিচারক কিংসফোর্ডের বিরুদ্ধে যে ঐতিহাসিক বোমা হামলা ঘটে, ইতিহাসের বৃহত্তর অংশে ক্ষুদিরাম বসুর নাম বেশি উল্লেখিত হলেও—
এই অভিযানের প্রকৃত পরিকল্পনাকারী, মুখ্য সংগঠক ও নেতৃত্বদাতা ছিলেন প্রফুল্ল চন্দ্র চাকী।
হামলার পর ক্ষুদিরাম ধরা পড়েন এবং ফাঁসিতে ঝুলেন।
অন্যদিকে, প্রফুল্ল চাকী পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগেই নিজের রিভলভার দিয়ে আত্মাহুতি দেন—একটি বিরল ও অভূতপূর্ব আত্মোৎসর্গ।
মাতৃভূমির জন্য তাঁর এই আত্মদান বিপ্লবের ইতিহাসে ঝলমলে অক্ষরে লেখা।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| জন্ম | ১০ ডিসেম্বর ১৮৮৮, বিহারহাট, বগুড়া |
| পরিচয় | ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামের বিপ্লবী |
| উল্লেখযোগ্য ভূমিকা | কিংসফোর্ড হত্যা চেষ্টার প্রধান পরিকল্পনাকারী |
| আত্মাহুতি | ১৯০৮ সালে ব্রিটিশ পুলিশের হাতে ধরা পড়ার আগেই আত্মহনন |
| স্মৃতি সংরক্ষণ | বগুড়ায় নেই উল্লেখযোগ্য স্মৃতিচিহ্ন; কলকাতায় একটি সড়ক তাঁর নামে |
ক্ষুদিরাম বসুর জীবন নিয়ে নাটক, চলচ্চিত্র, গান—সবই হয়েছে;
কিন্তু একই আন্দোলনের সমান গুরুত্বপূর্ণ নায়ক প্রফুল্ল চাকীর নাম আজও জনমানসে তেমনভাবে উচ্চারিত হয় না।
তাঁর জন্মভিটা প্রায় বিলীন, এবং বগুড়ায় তাঁর নামে স্থায়ী কোনো স্মৃতি বা সরকারি উদ্যোগ নেই।
“প্রফুল্ল চাকী পরিষদ” নামের একটি বেসরকারি সংগঠন ছাড়া অন্য কোনো আনুষ্ঠানিক স্মরণোৎসব হয় না—যা এক জাতির ইতিহাসভ্রষ্টতার বেদনাদায়ক প্রমাণ।
কলকাতায় শিয়ালদা–রাজাবাজার রোড তাঁর নামে পরিচিত হলেও নিজ মাটিতে নেই সেই মর্যাদা।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর নাম যেন ইতিহাসের পাঠের বাইরে সরে গেছে।
আজ তাঁর জন্মদিনে আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি বগুড়ার এই মহৎ বীর সন্তানকে—
যিনি স্বাধীনতার জন্য নিজের জীবন বিসর্জন দিতে মুহূর্তমাত্র দ্বিধা করেননি।
তাঁর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।
বিপ্লবী প্রফুল্ল চন্দ্র চাকী—তোমার সাহস, ত্যাগ, আদর্শ ও সংগ্রাম যুগে যুগে বাংলার তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা দেবে।