খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
বন্ধ ও আংশিকভাবে বন্ধ থাকা বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় উৎপাদন ও সেবায় ফিরিয়ে আনতে বড় ধরনের অর্থায়ন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই লক্ষ্যে ২০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে, যা দেশের শিল্প খাতে স্থবিরতা কাটিয়ে অর্থনৈতিক গতিশীলতা ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো এই তহবিল থেকে অর্থ নিয়ে গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ করতে পারবে। বর্তমানে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ঋণের সুদের হার সাধারণত ১২ থেকে ১৪ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করে। ফলে এই স্বল্পসুদের তহবিল শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক স্বস্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, একটি কোম্পানি বা শিল্পগোষ্ঠী সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত চলতি মূলধন ঋণ নিতে পারবে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠান পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও শুধু মূলধনের অভাবে উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে চালু রাখতে পারছে না, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের কাছে পাঠিয়েছে। এই তহবিলটি মোট ৬০ হাজার কোটি টাকার বৃহৎ প্রণোদনা প্যাকেজের অংশ, যা বিভিন্ন শিল্প ও সেবা খাতে পুনরুজ্জীবন আনতে তৈরি করা হয়েছে।
নীতিনির্ধারণী সূত্র অনুযায়ী, এই সুবিধার মূল লক্ষ্য শুধু উৎপাদন বাড়ানো নয়; বরং রপ্তানি সম্প্রসারণ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থবির হয়ে থাকা কারখানাগুলোকে পুনরায় সচল করা। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী ও পরোক্ষ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো এই সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে।
এ ছাড়া কোনো দক্ষ প্রতিষ্ঠান যদি বন্ধ থাকা কোনো কারখানা অধিগ্রহণ বা ইজারা নিয়ে পুনরায় চালু করে, সেক্ষেত্রেও তারা এই তহবিল থেকে ঋণ সুবিধা পেতে পারবে। তবে ঋণ গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের অবশ্যই ঋণ তথ্য ব্যুরোর তথ্যে খেলাপি না থাকা এবং পূর্বে অর্থপাচার বা ঋণের অপব্যবহারের কোনো রেকর্ড না থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ঋণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিধি নিয়োগের সুযোগও দেওয়া হয়েছে, যাতে অর্থের যথাযথ ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করা যায়। পাশাপাশি, তহবিলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকগুলোকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সম্মাননা দেওয়ার কথাও নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এই উদ্যোগের ফলে শিল্প খাতে দীর্ঘদিন ধরে চলমান মূলধন সংকট কিছুটা হলেও কমবে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন। একই সঙ্গে বাজারে সুদের হার কমানোর ক্ষেত্রেও এটি সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
নিচে তহবিলের প্রধান শর্তাবলি সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | শর্ত |
|---|---|
| তহবিলের আকার | ২০ হাজার কোটি টাকা |
| সর্বোচ্চ ঋণ সীমা | ২০০ কোটি টাকা (প্রতি প্রতিষ্ঠান/গ্রুপ) |
| সুদের হার | সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ |
| বর্তমান বাজার সুদ | প্রায় ১২–১৪ শতাংশ |
| লক্ষ্য খাত | বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাত |
| অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান | বন্ধ/আংশিক বন্ধ কারখানা, রপ্তানিমুখী শিল্প |
| শর্ত | খেলাপি না থাকা, অপব্যবহারের রেকর্ড না থাকা |
সামগ্রিকভাবে এই তহবিল শিল্প পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।