খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 1শে কার্তিক ১৪৩২ | ১৬ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আদালত ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বরগুনা পৌরসভায় যানবাহন থেকে টোলের নামে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
চালকদের অভিযোগ, নির্ধারিত হারে টাকা না দিলে হুমকি, মারধর এমনকি গাড়িও আটক করা হয়।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, বরগুনা শহরের প্রবেশপথ ক্রোক ব্রিজ, পৌর বাস টার্মিনাল ও সোনাখালী এলাকায় প্রকাশ্যে প্রতিদিন যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন থেকে টোল আদায় করা হচ্ছে। অটোরিকশা থেকে শুরু করে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল পর্যন্ত কেউই রেহাই পাচ্ছেন না।
চালকদের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিদিন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা থেকে ১০ টাকা, সিএনজিচালিত ও মাহিন্দ্রা অটোরিকশা থেকে ২০ টাকা, পিকআপ থেকে ১০০ টাকা এবং ট্রাক ও বাস থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়।
সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর থেকে পণ্য নিয়ে আসা একাধিক ট্রাকচালক বলেন, “খুলনা ও বাগেরহাট পার হলেও কোথাও টাকা দিতে হয় না। কিন্তু বরগুনা পৌরসভায় ঢোকার আগেই ২০০ টাকা দিতে হয়।”
টোল আদায়কারী সাগর জমাদ্দার দাবি করেন, “পৌরসভা তিনবার দরপত্র আহ্বান করে, তৃতীয়বার আমরা ইজারা পাই।”
তবে আদালত ও সরকারের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, টার্মিনাল ছাড়া কোনো সড়ক বা মহাসড়কে টোল আদায় করা যাবে না। গত ২১ এপ্রিল বরগুনার দ্রুত বিচার আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরিয়ত উল্লাহ জেলার সব সড়কে টোল আদায় বন্ধের নির্দেশ দেন। পরে ২৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পৌর-১ শাখা থেকেও একই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাজমুস সাকিব বলেন, “বরগুনা পৌরসভায় সড়ক থেকে যে টোল আদায় হচ্ছে, তা আদালতের আদেশের সরাসরি লঙ্ঘন এবং সম্পূর্ণ অবৈধ চাঁদাবাজি।”
জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. নুরুল আমিন বলেন, “টার্মিনাল ছাড়া কোনো স্থান থেকে টাকা আদায় বৈধ নয়। এটি বিধিবহির্ভূত।”
বরগুনা সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি মনির হোসেন কামাল বলেন, “অবৈধভাবে টাকা আদায়ের কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে, সাধারণ মানুষও ভোগান্তিতে পড়ছে।”
পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা বাসস্ট্যান্ড ইজারা দিয়েছি। ক্রোক ব্রিজ ও সোনাখালী প্রান্তে টাকা তোলা হয়।”
এ বিষয়ে বরগুনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, “যদি এমন হয়, এটি অবশ্যই অন্যায় এবং বিধিবহির্ভূত। বিষয়টি নিয়ে পৌরসভা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হবে, যাতে তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করে।”
খবরওয়ালা/আশ