খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 9শে চৈত্র ১৪৩২ | ২৩ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের মধ্য কাশিমাবাদ গ্রামে ভয়াবহ হামলায় ১৭টি বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীরা মসজিদের আশ্রয় নেওয়া তিনজনকে আহত করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই হামলার নেতৃত্ব দেন একজন ছাত্রদল নেতা ও কয়েকজন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা। পুলিশ ইতোমধ্যেই চারজনকে আটক করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার দুপুরে। কাশিমাবাদ মধ্যপাড়া জামে মসজিদ কমিটি ঈদের নামাজের সময়সূচি নির্ধারণ এবং ইমামের বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করেন। এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে অসন্তুষ্ট রফিকুল আলম খান ও হারুন খান স্থানীয়দের সঙ্গে তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েন। পরের দিন ঈদের নামাজ শেষে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।
স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ ২০০-এর বেশি লোক নিয়ে অতর্কিতভাবে গ্রামে প্রবেশ করে। তারা ঘর ভাঙচুর ও আসবাবপত্র, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার লুট করে। মসজিদেও হামলা চালিয়ে মাইক, পানির ট্যাংক ও জানালা ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়।
| ধরন | পরিমাণ / বিবরণ |
|---|---|
| ক্ষতিগ্রস্ত বসতঘর | ১৭টি |
| আহত ব্যক্তি | ৩জন (ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন) |
| হামলাকারীর সংখ্যা | প্রায় ২০০ |
| লুটপাটের মূল্য | প্রায় কোটি টাকা |
| মসজিদে ক্ষতি | মাইক, পানির ট্যাংক, জানালা, ছাদে ইটের ক্ষতি |
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অভিযোগ, হামলা মূলত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। বিশেষত বিএনপি সমর্থক নাজমুল ইসলাম বলেছেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে তার বসতঘরে হামলা চালানো হয়েছে।
মসজিদ কমিটির হিসাবরক্ষক আকতার হোসেন জানান, “ঈদের নামাজের সময় নির্ধারণ এবং ইমামের বেতন বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে আলোচনা করা হয়েছিল। তবে কয়েকজন স্থানীয় নেতা এতে অসন্তুষ্ট হয়ে কয়েকশ’ লোক নিয়ে হামলা চালায়।”
স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী নেতা আব্দুত তাওয়াবও ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ান এবং প্রশাসনকে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছে এবং মামলা প্রক্রিয়াধীন। অভিযানের মাধ্যমে চারজনকে আটক করা হয়েছে।
ঘটনাটি কেবল বসতঘর ক্ষতিসাধনের সঙ্গে সীমাবদ্ধ নয়, এটি স্থানীয় রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও সামাজিক উত্তেজনার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রভাবিত পরিবারগুলো প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
এই হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং স্থানীয় শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রশ্নও উঠেছে।