খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই আগস্ট ২০২৬, ৪:৩৪ পিএম
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে আট বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের (বলাৎকার) মামলায় সংশ্লিষ্ট মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ রমিজ উদ্দীনকে (৩১) গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৭)।
গতকাল সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা উপজেলার কর্ণফুলী টানেল সংলগ্ন চায়না রোড এলাকার বৈরাগ পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব-৭ সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত রমিজ উদ্দীন বাঁশখালী উপজেলার ‘দারুচ্ছুন্নাহ খাইরিয়া মাদরাসা ও এতিমখানা’র প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী আট বছরের শিশুটি ওই মাদরাসার নাজেরা বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল। সেখানে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে একাধিকবার ফুসলিয়ে ওয়াশরুমে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। সবশেষ গত ২৩ জুলাই বিকেলে মাদরাসা ছুটি হওয়ার পর অন্যান্য শিক্ষার্থীরা যখন মাঠে খেলাধুলা করতে যায়, তখন শিশুটিকে এতিমখানার হেফজ বিভাগের দ্বিতীয় তলার একটি ফাঁকা শ্রেণিকক্ষে ডেকে নিয়ে যান রমিজ উদ্দীন। সেখানে তাকে আবারও যৌন নির্যাতন চালানো হয়। এ ঘটনা অন্য কারো কাছে প্রকাশ করলে কঠিন শাস্তির ভয়ভীতি দেখিয়ে শিশুটিকে হুমকিও দেন অভিযুক্ত শিক্ষক।
অত্যাচারের শিকার শিশুটি বাড়ি ফিরে অস্বাভাবিক কান্নাকাটি শুরু করে এবং মাদ্রাসায় আর ফিরে যাবে না বলে একপর্যায়ে মায়ের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলে। সন্তানের কাছে এ মর্মান্তিক বিষয়ের বিবরণ শুনে পরিবার স্তব্ধ হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে গত ২৯ জুলাই বাঁশখালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের খবর পেয়ে রমিজ উদ্দীন এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত হয়ে র্যাব-৭-এর একটি চৌকস দল আনোয়ারা এলাকায় ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে তাঁকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
র্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) এ. আর. এম. মোজাফফর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পর থেকে রমিজ উদ্দীন পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে বাঁশখালী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য