পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল)–এ বাংলাদেশি পেসারদের পারফরম্যান্সে উজ্জ্বল একটি ম্যাচে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে পেশাওয়ার জালমি। করাচির ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে পেশাওয়ার জালমি ৭৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন লাহোর কালান্দার্সকে। এই জয়ের ফলে পেশাওয়ার উঠে এসেছে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে, আর লাহোর নেমে গেছে ষষ্ঠ স্থানে।
ম্যাচটি ঘিরে বাড়তি আগ্রহ ছিল বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের কারণে। লাহোর কালান্দার্সে খেলছেন পেসার মুস্তাফিজুর রহমান, আর পেশাওয়ার জালমির একাদশে ছিলেন নাহিদ রানা ও শরীফুল ইসলাম। তবে ইনজুরির কারণে পারভেজ হোসেন ইমন না থাকায় সম্ভাব্য “বাংলাদেশি দ্বৈরথ” আর দেখা যায়নি।
টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামে পেশাওয়ার জালমি। নির্ধারিত ২০ ওভারে তারা ৭ উইকেটে সংগ্রহ করে ১৭৩ রান। ইনিংসের মূল নায়ক ছিলেন শ্রীলঙ্কান ওপেনার কুশল মেন্ডিস, যিনি ৭৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। অধিনায়ক বাবর আজম করেন ৪৩ রান, যা দলের বড় সংগ্রহ গড়তে সহায়তা করে।
বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান বল হাতে ভালো পারফর্ম করেন, তিনি ২ উইকেট নেন ৩০ রান দিয়ে। তবে প্রতিপক্ষের স্কোর থামাতে একাই যথেষ্ট ছিলেন না তিনি। পেশাওয়ারের অন্যান্য ব্যাটাররাও মাঝারি অবদান রেখে দলকে চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহে পৌঁছে দেন।
নিচে পেশাওয়ার জালমির ইনিংসের সংক্ষিপ্ত চিত্র দেওয়া হলো—
| ব্যাটার |
রান |
| কুশল মেন্ডিস |
৭৪ |
| বাবর আজম |
৪৩ |
| ব্রেসওয়েল |
২১ |
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে লাহোর কালান্দার্স। পাওয়ারপ্লেতেই বড় ধাক্কা দেয় পেশাওয়ারের বোলাররা। বিশেষ করে শরীফুল ইসলামের ইনসুইং ডেলিভারিতে আউট হন ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম। এরপর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি লাহোর।
মাঝের ওভারে স্পিনার সুফিয়ান মুকিম এবং মাইকেল ব্রেসওয়েল লাহোর ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান। দুজনই নেন ৩টি করে উইকেট, যার ফলে লাহোরের রান তাড়া সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে।
বাংলাদেশি পেসার নাহিদ রানা তার গতির ঝড় অব্যাহত রেখে ২ উইকেট শিকার করেন মাত্র ১৫ রান দিয়ে। শরীফুলও কার্যকর বোলিং করে ১ উইকেট নেন। তবে মুস্তাফিজুর রহমানের লাহোর দল মাত্র ৯৭ রানে অলআউট হয়ে যায় ১৭ ওভারে।
লাহোরের ব্যাটিং ব্যর্থতার চিত্র—
| ব্যাটার |
রান |
| ফখর জামান |
২১ |
| ইমাম-উল-হক |
২১ |
| ভেল্লালাগে |
২০ |
পেশাওয়ারের বোলিং আক্রমণ ছিল সমানভাবে কার্যকর। মুকিম ৩ উইকেট নেন ১৮ রানে, ব্রেসওয়েল ৩ উইকেট নেন ২১ রানে, আর নাহিদ ও শরীফুল মিলে চাপ তৈরি করেন শুরু থেকেই। মুস্তাফিজ ২ উইকেট নিলেও দলের পরাজয় ঠেকাতে পারেননি।
ম্যাচ সংক্ষেপে:
| দল |
রান |
ফলাফল |
| পেশাওয়ার জালমি |
১৭৩/৭ |
জয়ী (৭৬ রানে) |
| লাহোর কালান্দার্স |
৯৭ অলআউট |
পরাজিত |
ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন কুশল মেন্ডিস তার ৭৪ রানের অসাধারণ ইনিংসের জন্য।
এই জয়ের মাধ্যমে পেশাওয়ার জালমি পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে, আর লাহোর কালান্দার্সের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে তাদের ব্যাটিং ব্যর্থতা এবং মাঝের ওভারে ধস নামা দলটির জন্য উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশি পেসারদের অংশগ্রহণে ম্যাচটি যেমন ছিল আকর্ষণীয়, তেমনি দলীয় পারফরম্যান্সের দিক থেকে পেশাওয়ার জালমি ছিল সম্পূর্ণ আধিপত্যশীল।