টেস্ট ম্যাচের চতুর্থ দিনের প্রথম দুই সেশনেই বাংলাদেশের হাত থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই বেরিয়ে গেছে। নতুন বলে প্রতিপক্ষের ব্যাটিংয়ে চাপ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছেন বাংলাদেশের পেসাররা। অন্যদিকে, আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে দ্রুত রান তুলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে। চা বিরতিতে ২ উইকেট হারিয়ে ক্যারিবীয়দের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ২৫৯ রান। প্রথম ইনিংসের হিসাব মিলিয়ে তাদের লিড পৌঁছেছে ২২৯ রানে। ফলে ম্যাচের শেষ ইনিংসে বাংলাদেশের সামনে কঠিন লক্ষ্য অপেক্ষা করছে।
চতুর্থ দিনের খেলা শুরু থেকেই বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দিনের প্রথম সেশনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুটি উইকেট তুলে নিতে সক্ষম হয় সফরকারীরা। এতে কিছুটা আশার আলো দেখা দিয়েছিল বাংলাদেশ শিবিরে। কিন্তু সেই সাফল্য ধরে রাখা যায়নি পরবর্তী সেশনে। দ্বিতীয় সেশনে কোনো উইকেটই নিতে পারেননি বাংলাদেশের বোলাররা। বরং ক্যারিবীয় ব্যাটাররা বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে রান তুলেছেন।
বিশেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংয়ে ছিল আক্রমণাত্মক মনোভাব। রান তোলার ক্ষেত্রে তারা অনেকটা ওয়ানডে ক্রিকেটের গতিতে এগিয়েছে। বাংলাদেশের বোলাররা কয়েকটি ভালো বল করলেও ধারাবাহিকভাবে চাপ তৈরি করতে পারেননি। ফলে প্রতিপক্ষের ব্যাটাররা সহজেই নিজেদের ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
নতুন বলেও সুবিধা আদায় করতে পারেনি বাংলাদেশ
ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য চতুর্থ দিনের শুরুটা বাংলাদেশের কাছে ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন বল হাতে নিয়ে দ্রুত কয়েকটি উইকেট তুলে নিতে পারলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বড় লিড গড়ার পথে আটকে দেওয়া সম্ভব হতো। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদরা।
দ্বিতীয় ইনিংসে নতুন বল হাতে পাওয়ার পরও বাংলাদেশের পেসাররা প্রত্যাশিত সাফল্য পাননি। ক্যারিবীয় ব্যাটাররা দিনের প্রথম ঘণ্টা বেশ নির্বিঘ্নে পার করে দেন। এই সময়টুকুতে উইকেট না হারানো ওয়েস্ট ইন্ডিজের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। এরপর ধীরে ধীরে রান তোলার গতি বাড়িয়ে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণকে আরও চাপে ফেলে তারা।
টেস্ট ক্রিকেটে নতুন বলের প্রথম দিকের স্পেল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় পেসাররা সাধারণত সুইং ও সিম মুভমেন্ট কাজে লাগিয়ে ব্যাটারদের সমস্যায় ফেলতে পারেন। বিশেষ করে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাটিংয়ের জন্য প্রতিপক্ষকে বড় লক্ষ্য দিতে চাইলে দ্বিতীয় ইনিংসে দ্রুত উইকেট তুলে নেওয়া জরুরি। বাংলাদেশ সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি।
পরিসংখ্যানও বাংলাদেশের বিপক্ষে
ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেওয়া ২২৯ রানের লিড বাংলাদেশের জন্য কেন এত বড় দুশ্চিন্তার কারণ, তা বোঝা যায় দলের অতীত রেকর্ডের দিকে তাকালে। টেস্ট ক্রিকেটে চতুর্থ ইনিংসে বড় লক্ষ্য তাড়া করে জয়ের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের খুব বেশি নেই।
২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে ২১৭ রানের লক্ষ্য সফলভাবে তাড়া করে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। সেটিই চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশের ২০০ বা তার বেশি রান তাড়া করে জয়ের একমাত্র নজির হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ, ২০০৯ সালের সেই ঐতিহাসিক জয়ের পরিসংখ্যানই এখন বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জের বাস্তবতা তুলে ধরছে। ২২৯ রানের লিড পেরিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ আরও বাড়লে বাংলাদেশের কাজ কঠিন থেকে কঠিনতর হবে।
শেষ দিনের আগে বড় পরীক্ষায় বাংলাদেশ
চা বিরতিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের লিড ২২৯ রানে পৌঁছানোয় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখন অনেকটাই ক্যারিবীয়দের হাতে। বাংলাদেশের সামনে চ্যালেঞ্জ শুধু রান তাড়া করা নয়, প্রতিপক্ষের ইনিংস দ্রুত শেষ করে নিজেদের ব্যাটিংয়ের জন্য পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ নিশ্চিত করাও।
এখন বাংলাদেশের বোলারদের সামনে প্রধান কাজ হবে দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস থামানো। অন্যদিকে, ক্যারিবীয়রা চাইবে হাতে থাকা উইকেট কাজে লাগিয়ে লিড আরও বাড়াতে। ব্যাটিংয়ে তাদের এই দৃঢ়তা বাংলাদেশের জন্য বড় সতর্কবার্তা।
দিনের প্রথম সেশনে দুটি উইকেট পাওয়ার পর দ্বিতীয় সেশনে কোনো সাফল্য না পাওয়া বাংলাদেশের জন্য হতাশাজনক। নতুন বলেও সুবিধা আদায় করতে না পারায় ম্যাচের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। চতুর্থ দিনের বাকি সময় ও শেষ দিনের খেলায় বাংলাদেশ কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।


