খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডস (ডব্লিউসিএল)–এর তৃতীয় আসরকে ঘিরে যুক্ত হচ্ছে নতুন উত্তেজনা ও নতুন প্রতিযোগিতার মাত্রা। সাবেক আন্তর্জাতিক তারকা ক্রিকেটারদের নিয়ে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো অংশ নিতে যাচ্ছে ‘বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্স’। ফলে ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিশালী সাবেক দলগুলোর সঙ্গে এবার লাল-সবুজের কিংবদন্তিরাও লড়াইয়ে নামছেন শিরোপার জন্য।
আয়োজক সূত্র ও ফ্র্যাঞ্চাইজি সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশ দলের নেতৃত্বে দেখা যেতে পারে দেশের সাবেক দুই তারকা ব্যাটার—মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এবং মোহাম্মদ আশরাফুলকে। বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্সের সহ-সত্ত্বাধিকারী শাহনিয়ান তানিম জানিয়েছেন, দলটি শুধু অংশগ্রহণ নয়, বরং শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে।
এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকে নিজের জন্য বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তিনি বলেন, এটি কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আবারও দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ। তার ভাষায়, দলীয় প্রয়োজনে যেকোনো ব্যাটিং পজিশনে খেলার জন্য তিনি প্রস্তুত এবং লক্ষ্য একটাই—ভালো পারফরম্যান্স ও শিরোপার জন্য লড়াই।
অন্যদিকে বাংলাদেশ দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও স্কোয়াড গঠন প্রসঙ্গে আলোচনা উঠেছে সাবেক দুই তারকা—সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মর্তুজাকে ঘিরে। এই বিষয়ে শাহনিয়ান তানিম জানান, তাদের অংশগ্রহণ নির্ভর করছে বিদ্যমান আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার ওপর। তবে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্সের দরজা সবসময়ই তাদের জন্য খোলা থাকবে, যদি তারা খেলতে সক্ষম হন।
তিনি আরও বলেন, ক্রিকেটার হিসেবে সাকিব ও মাশরাফি দেশের গর্ব, এবং রাজনীতির বাইরে তাদের কেবল খেলোয়াড় হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত। ফলে সুযোগ তৈরি হলে তাদের দলে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে আগ্রহ থাকবে।
ডব্লিউসিএল-এর পূর্ববর্তী আসরগুলো ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। প্রতিযোগিতামূলক সেই আসরগুলোতে সাবেক তারকাদের উপস্থিতি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। প্রথম আসরে শিরোপা জেতে ভারত, দ্বিতীয় আসরে দক্ষিণ আফ্রিকা চ্যাম্পিয়ন হয়, আর দুইবারই রানার্সআপ হয় পাকিস্তান।
নিচে পূর্ববর্তী আসরের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপের সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো—
| আসর | আয়োজক দেশ | চ্যাম্পিয়ন | রানার্সআপ |
|---|---|---|---|
| ২০২৪ (প্রথম আসর) | ইংল্যান্ড | ভারত | পাকিস্তান |
| ২০২৫ (দ্বিতীয় আসর) | ইংল্যান্ড | দক্ষিণ আফ্রিকা | পাকিস্তান |
বিশ্লেষকদের মতে, তৃতীয় আসরে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্সের অন্তর্ভুক্তি টুর্নামেন্টকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও বৈচিত্র্যময় করে তুলবে। বিশেষ করে উপমহাদেশীয় ক্রিকেট প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন করে প্রাণ পাবে এই লিগে।
ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এই টুর্নামেন্ট হয়ে উঠছে এক ধরনের নস্টালজিক উৎসব, যেখানে বর্তমানের ব্যস্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া তারকারা আবারও ফিরছেন মাঠে, নিজেদের পুরোনো রূপে। বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্সের লক্ষ্য এখন স্পষ্ট—শুধু অংশগ্রহণ নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে নিজেদের অবস্থান তৈরি করে শিরোপা জেতা।