বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাচারের সময় সীমান্ত এলাকায় প্রায় ১৫ কেজি ৬০৭ গ্রাম স্বর্ণের বড় একটি চালান জব্দ করেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী। জব্দ করা স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য ২৪ কোটি ৯৫ লাখ ৫৬ হাজার ভারতীয় রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩২ কোটি টাকার সমপরিমাণ।
রোববার (৩০ আগস্ট) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিএসএফ জানায়, পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার বানিপুর সীমান্ত চৌকি এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। এলাকাটি বাংলাদেশের দর্শনা সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্তপথে অবৈধ পণ্য পারাপার ঠেকাতে সেখানে নজরদারি চালানো হয়।
বিএসএফের ৩২ নম্বর ব্যাটালিয়নের সদস্যরা রোববার ভোররাতে নিয়মিত টহল দেওয়ার সময় এক নারীকে সন্দেহজনকভাবে চলাফেরা করতে দেখেন। পরে তাকে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের বিস্কুট উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা স্বর্ণের মোট ওজন ১৫ কেজি ৬০৭ গ্রাম।
উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের বিবরণ
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| স্বর্ণের মোট ওজন | ১৫ কেজি ৬০৭ গ্রাম |
| স্বর্ণের ধরন | স্বর্ণের বিস্কুট |
| আনুমানিক ভারতীয় মূল্য | ২৪ কোটি ৯৫ লাখ ৫৬ হাজার রুপি |
| আনুমানিক বাংলাদেশি মূল্য | প্রায় ৩২ কোটি টাকা |
| অভিযানের সময় | রোববার ভোররাত |
| জব্দের স্থান | বানিপুর সীমান্ত চৌকি এলাকা |
| জেলা | নদীয়া |
| রাজ্য | পশ্চিমবঙ্গ |
| সংশ্লিষ্ট সীমান্ত | বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত |
| অভিযানকারী বাহিনী | বিএসএফ |
| ব্যাটালিয়ন | ৩২ নম্বর ব্যাটালিয়ন |
| আটক ব্যক্তি | একজন নারী |
বিএসএফের তথ্য অনুযায়ী, স্বর্ণগুলো কীভাবে ওই নারীর কাছে পৌঁছেছিল এবং সীমান্ত পার হওয়ার পর কোথায় নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল, তা জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য তাকে স্থানীয় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তদন্তকারীরা এখন এই চালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে সীমান্তের কোন অংশ ব্যবহার করে স্বর্ণ ভারতে প্রবেশ করানো হয়েছিল, এর পেছনে কোনো সংগঠিত চক্র রয়েছে কি না এবং চালানটির সম্ভাব্য গন্তব্য কোথায় ছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সীমান্ত দিয়ে স্বর্ণ পাচারের ক্ষেত্রে সাধারণত ছোট আকারের চালানের পরিবর্তে বড় চালান আটক হলে এর পেছনে একাধিক ব্যক্তির সমন্বিত কর্মকাণ্ড থাকার সম্ভাবনা তদন্তের আওতায় আসে। এ কারণে বিপুল পরিমাণ এই স্বর্ণ উদ্ধারের পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের দীর্ঘ সীমান্তজুড়ে বৈধ বাণিজ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে স্বর্ণসহ মূল্যবান পণ্য অবৈধভাবে পারাপারের চেষ্টা ধরা পড়ে। এসব ঘটনায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর টহল, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সর্বশেষ অভিযানে প্রায় ৩২ কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনা সীমান্তপথে সক্রিয় চোরাচালান নেটওয়ার্কের বিষয়ে নতুন করে তদন্তের সুযোগ তৈরি করেছে। আটক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের উৎস অনুসন্ধানের মাধ্যমে এই চালানের সঙ্গে আরও কারা জড়িত, সে বিষয়ে তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন।



