ঝালকাঠির নলছিটিতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে থাকা একটি গাছের সঙ্গে পোল্ট্রি মুরগিবাহী পিকআপ ভ্যানের সজোরে ধাক্কা লাগার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এতে ঘটনাস্থলেই গাড়িটির হেলপার মো. ইমরান প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া চালকসহ আরও অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ভোররাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে ঘটা এই দুর্ঘটনা পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আজ রোববার (৩০ আগস্ট) ভোররাত আনুমানিক তিনটার দিকে ব্যস্ততম বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের খেজুরতলা এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত চল্লিশ বছর বয়সী মো. ইমরান পটুয়াখালী জেলার দশমিনা এলাকার মৃত মমিন উদ্দিনের সন্তান। তিনি জীবিকার তাগিদে পোল্ট্রি মুরগি পরিবহনের এই পিকআপ ভ্যানে হেলপারি করতেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পিকআপ ভ্যানটি গভীর রাতে পোল্ট্রি মুরগি বোঝাই করে নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে ছুটে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে খেজুরতলা নামক স্থানে পৌঁছানোর পর চালক হঠাৎ গাড়িটির ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এতে দ্রুতগতির গাড়িটি সড়ক থেকে ছিটকে গিয়ে সরাসরি রাস্তার পাশের একটি বিশাল রেইনট্রি গাছের সঙ্গে প্রচণ্ড বেগে ধাক্কা খায়। ধাক্কার তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে মুহূর্তের মধ্যে গাড়িটি উল্টে দুমড়েমুচড়ে যায়। গাড়িতে থাকা মুরগির কেবিন ভেঙে পড়ে এবং হেলপার ইমরান ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। এ সময় গাড়ির ভেতরে থাকা চালক ও অন্য যাত্রীরা গুরুতর আহত হয়ে আটকা পড়েন।
ভোররাতের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে আশপাশের বাড়িঘর থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। তারা নিজ উদ্যোগে উদ্ধারকাজ শুরু করেন এবং পুলিশকে খবর দেন। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নলছিটি থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। স্থানীয় লোকজনের অকৃত্রিম সহায়তায় পুলিশ গুরুতর আহতদের গাড়ি থেকে উদ্ধার করে।
উদ্ধারকৃত আহতদের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের তাৎক্ষণিকভাবে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখানে জরুরি বিভাগে তাদের চিকিৎসা চলছে। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট হাইওয়ে পুলিশের সার্বিক সহায়তায় দুর্ঘটনাকবলিত পিকআপ ভ্যান থেকে নিহত হেলপার ইমরানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেয়। স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।



