হিমালয় অঞ্চলে ভারী বর্ষণজনিত আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে নেপাল এবং তিব্বতে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৭৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষ, যার মধ্যে অন্তত ৫৮৯ জন বিদেশি নাগরিক। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পঞ্চম দিনেও দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে দিনরাত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে নেপালের সেনাবাহিনী ও জরুরি উদ্ধারকারী দল। এখন পর্যন্ত ৮ হাজার ১৮৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের এক প্রতিবেদনে এই মানবিক বিপর্যয়ের খবর নিশ্চিত করেছে।
টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড় ধসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গোটা হিমালয় অঞ্চল। দুর্গম গ্রামগুলো থেকে শুরু করে বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকা এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ভেঙে পড়েছে স্থানীয় যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। কাদা ও পাথরের নিচে চাপা পড়ে থাকা স্বজনদের উদ্ধারে বুকভাঙা আকুতি নিয়ে অপেক্ষা করছেন পরিবারের সদস্যরা। অন্য দিকে চরম খাদ্যসংকট ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে দুর্গম স্থানে আটকে পড়া মানুষ বেঁচে থাকার আকুল লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মাঝে বেশ কিছুক্ষণ উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হলেও পরবর্তীতে সেনা ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে অভিযান আবারও জোরদার করা হয়। যেসব পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় সড়কপথে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না, সেখানে উদ্ধারকর্মী পাঠানো ও আটকে পড়া মানুষকে সরিয়ে নিতে সামরিক হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। নিখোঁজদের স্বজনরা জরুরি ভিত্তিতে তল্লাশি অভিযান বাড়ানো এবং আরও ব্যাপকভাবে উদ্ধারকাজের পরিধি বাড়ানোর আকুল দাবি জানিয়েছেন।
নিখোঁজ প্রিয়জনদের খোঁজে মানুষ এখন সেনা ক্যাম্প ও অস্থায়ী ত্রাণ কেন্দ্রগুলোতে ভিড় জমিয়েছেন। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে উদ্ধারকৃত মানুষদের নিরাপত্তার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে আকাশপথে ও পদব্রজে শুকনো খাবার, সুপেয় পানি এবং জীবন রক্ষাকারী ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে।
দুর্ভোগের মধ্যেই নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভোতে কোশি নদী। নদীটির পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় নতুন করে আগাম সতর্কতা জারি করেছে নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। নদী তীরবর্তী ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের অনতিবিলম্বে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে।
সীমান্তের ওপারে চীনের তিব্বত অঞ্চলেও পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। এখন পর্যন্ত তিব্বতে ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৫ শতাধিক মানুষ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, তিব্বত এলাকায় চীনা প্রশাসনের কঠোর তথ্য নিয়ন্ত্রণের কারণে সেখান থেকে দুর্যোগের প্রকৃত চিত্র ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক বিবরণ পাওয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে উভয় অঞ্চল মিলেই এখন চরম মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।



