মহেশখালীতে অটোরিকশা থেকে আট আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার

কক্সবাজারের মহেশখালীতে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে অস্ত্র পরিবহনের সময় আটটি দেশে তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার ঠাকুরতলা চৌরাস্তার মোড় এলাকায় তল্লাশিচৌকি বসিয়ে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। পরে রোববার দুপুরে মহেশখালী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিস্তারিত তথ্য জানায় পুলিশ।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন মহেশখালীর ঠাকুরতলা এলাকার মানিক দে, ৩৮, এবং চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের মো. রুবেল মিয়া, ৩৪। পুলিশ বলছে, অটোরিকশাটিতে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় আটটি আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি রাইফেল, ছয়টি একনলা বন্দুক এবং একটি এলজি রয়েছে।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে জানান, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাতে অস্ত্রের একটি চালান পরিবহনের তথ্য পেয়ে তল্লাশিচৌকি স্থাপন করা হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এর আগে ২১ আগস্ট মহেশখালীর শাপলাপুর ইউনিয়নের মিঠাছড়ি এলাকার গহিন পাহাড়ে অভিযান চালানো হয়েছিল। ওই অভিযানে অস্ত্র তৈরির বিপুল সরঞ্জামসহ একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অবৈধ অস্ত্রের উৎস, পরিবহন ও সরবরাহের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছিল।

এর মধ্যেই শনিবার রাতে পুলিশ জানতে পারে, ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের আদিনাথ জেটিঘাট থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে আগ্নেয়াস্ত্রের একটি চালান চকরিয়ার বদরখালী এলাকায় নেওয়া হবে। তথ্য পাওয়ার পর ঠাকুরতলা চৌরাস্তার মোড়ে যানবাহন তল্লাশির ব্যবস্থা করা হয়।

একপর্যায়ে সন্দেহভাজন অটোরিকশাটি সেখানে পৌঁছালে পুলিশ সেটিকে থামার সংকেত দেয়। কিন্তু অটোরিকশাটি সংকেত না মেনে দ্রুত চলে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ পিছু নিয়ে ধাওয়া করলে অটোরিকশায় থাকা চারজনের মধ্যে দুজনকে আটক করা সম্ভব হয়। অপর দুজন অটোরিকশা থেকে নেমে পালিয়ে যান।

পরে অটোরিকশাটিতে তল্লাশি চালানো হলে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় আটটি আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলোর মধ্যে ছয়টি একনলা বন্দুক থাকায় এটি যে একটি সংগঠিত অস্ত্র পরিবহনের ঘটনা হতে পারে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে অস্ত্রগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, কার নির্দেশে পরিবহন করা হচ্ছিল কিংবা এগুলো কোথায় সরবরাহের কথা ছিল—এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

পুলিশের এই অভিযানের সঙ্গে আগের পাহাড়ি এলাকায় অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকা থেকে অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের পর অল্প সময়ের ব্যবধানে পরিবহনরত অবস্থায় একাধিক দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তকারীরা অস্ত্রের সম্ভাব্য উৎস ও সরবরাহ ব্যবস্থার দিকে নজর দিচ্ছেন।

মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুস সুলতান জানান, আটক দুজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে। পরে ওই মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়। একই সঙ্গে অটোরিকশা থেকে নেমে পালিয়ে যাওয়া অপর দুজনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। অস্ত্রগুলোর উৎস ও সম্ভাব্য সরবরাহকারীদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি পলাতক দুজনকে গ্রেপ্তার করা গেলে অস্ত্র পরিবহনের পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করছে তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

মহেশখালীতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের এ অভিযানকে পুলিশের চলমান তৎপরতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র কোনো নির্দিষ্ট অপরাধে ব্যবহারের জন্য নেওয়া হচ্ছিল কি না, কিংবা এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। পুলিশ বলছে, তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।