খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আজ ৩ ফেব্রুয়ারি। সুপারহিট গান ‘নান্টু ঘটক’ ও ‘চান্দের বাতির কসম দিয়া’ রচিত, গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক আরমান খানের জন্মদিন। যদিও এই মুহূর্তে তিনি শহরের ঝলমলে মঞ্চ বা গণমাধ্যমে চোখে পড়েন না, তবু তাঁর সৃষ্ট সুর আজও মানুষের কণ্ঠে, মানুষের মনে জীবন্ত।
১৯৯০-এর শেষ ও ২০০০-এর প্রথম দশকে বাংলা গানের বাজার ছিল মূলত অডিও অ্যালবামের ওপর নির্ভর। ক্যাসেট ও সিডির সেই সময়ে আরমান খান দেশের অন্যতম ব্যস্ত সংগীত পরিচালক ছিলেন। মাত্র তিন বছরে (২০০২–২০০৫) তিনি প্রায় ২৩টি অডিও অ্যালবাম সম্পন্ন করেন।
| সময়কাল | প্রকল্প | সংখ্যা/বিস্তারিত |
|---|---|---|
| ২০০২–২০০৫ | অডিও অ্যালবাম | ২৩টি |
| ১৯৯৮–বর্তমান | নাটক/টেলিভিশন চ্যানেল | ১২০০+ নাটকের আবহসংগীত |
| ২০২১ | নতুন গান | ‘বন্ধু’, ‘আসা–যাওয়া’, ‘গুরু রে’ |
আরমানের স্টুডিও তখন শিল্পী ও যন্ত্রশিল্পীদের জন্য সৃজনশীল ও শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশের প্রতীক ছিল। প্রমিথিউস ব্যান্ডের বিপ্লব, আর্ক ব্যান্ডের হাসান, লাল বন্ধু নীল বন্ধু—এসব হিট গানের সুর ও সংগীতায়োজন তাঁরই।
তবে সাফল্যের সঙ্গে আসে ক্লান্তি ও হতাশা। তিনি লক্ষ্য করেন, গানের নির্মাতারা যথাযথ পারিশ্রমিক পান না। এক গানের জন্য গীতিকার প্রায়ই মাত্র ২,৫০০–৩,০০০ টাকা পান। এই বৈষম্য ও পাইরেসির সমস্যা তাঁকে সংগীতের শীর্ষে থাকলেও পেশা ছেড়ে দেওয়ার দিকে ঠেলে দেয়।
২০১৩ সালে আরমান খান সংগীত থেকে সরে এসে শ্রীমঙ্গলের গ্র্যান্ড সুলতান হোটেলে বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের প্রধান হিসেবে যোগ দেন। ধীরে ধীরে দায়িত্ব বাড়তে থাকে এবং বর্তমানে তিনি মহাব্যবস্থাপক। তাঁর নেতৃত্ব ও পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০১৯ সালে তিনি আতিথেয়তা খাতে সেরা মহাব্যবস্থাপক হিসেবে পুরস্কৃত হন।
সংগীত entirely ত্যাগ করেননি। ২০২১ সালে প্রকাশিত ‘বন্ধু’ গান, প্রয়াত আইয়ুব বাচ্চুর স্মরণে ‘আসা–যাওয়া’ এবং আজম খানের স্মরণে ‘গুরু রে’—এসব প্রমাণ করে, নিজ শর্তে সংগীতের সঙ্গে যুক্ত আছেন। করোনাকালীন সময় তিনি ইউটিউব চ্যানেল ‘বেস্ট অ্যান্ড গ্রেট’ চালু করে ৭০ ও ৮০-এর দশকের সংগীত ও শিল্পীদের গল্প তুলে ধরেন।
পারিবারিক জীবনেও আরমান খান নিভৃতভাবে জীবন কাটাচ্ছেন। স্ত্রী এমি খান, এক ছেলে আহরাম খান ও এক মেয়ে আনতারা রাইসা খান—এই ছোট পরিবার তাঁর শান্তির কেন্দ্র। অবসর সময়ে পিয়ানো বাজিয়ে সুর অন্বেষণ করেন এবং পাহাড়ঘেরা শ্রীমঙ্গলে বাবা-মায়ের কবরের পাশে কিছু সময় কাটান।
জন্মদিনে আরমান খান আলোচনার কেন্দ্রে না থাকলেও তাঁর সৃষ্ট সুর এখনো বিয়ের অনুষ্ঠান, গ্রাম্য উৎসব ও আনন্দঘন মুহূর্তে মানুষের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত। সময় বদলেছে, মাধ্যম বদলেছে, কিন্তু গান ও শিল্পীর আবেদন অমলিন।