খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
গত মঙ্গলবার শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রোগী নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখার অভিযোগের ঘটনায় এক বয়স্ক রোগীর মৃত্যু ঘটেছে। মৃত ব্যক্তির নাম জমশেদ আলী ঢালী (৭০)। তিনি ডামুড্যা উপজেলার কুতুবপুর এলাকায় বাস করতেন। ঘটনার দিন বিকেলে তিনি ঢাকার হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা যান।
জমশেদ আলীর স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স মালিক সুমন খানের নেতৃত্বে ৮-১০ জন স্থানীয় ব্যক্তি ঢাকাগামী অ্যাম্বুলেন্সটি দুই দফায় আটকে রাখেন। প্রথমবার কোটাপাড়া এলাকায় এবং দ্বিতীয়বার জামতলা এলাকায় মোট দেড় ঘণ্টা ধরে তারা বাধা দেন। স্থানীয়দের সহায়তায় অবশেষে রোগীকে ঢাকার পথে পাঠানো হয়। ঢাকায় পৌঁছানোর সময় রোগী শেষমেশ মারা যান।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, জমশেদ আলী সকাল ৯টার দিকে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতাল, ঢাকাতে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
রোগীর স্বজনেরা শুরুতে ৬,০০০ টাকায় একটি বাইরের অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নেন। পরে ভাড়া বৃদ্ধি করার দাবি জানায়। এরপর পরিচিত একটি অ্যাম্বুলেন্স ৫,০০০ টাকায় ভাড়া করা হয়। তখন স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স চক্রটি বাধা দেয়।
ঘটনার সময়ের বিবরণ নিম্নরূপ:
| সময় | স্থান | ঘটনা | স্থায়ী সময় |
|---|---|---|---|
| ১১:৩০ | সদর হাসপাতাল | বাইরের অ্যাম্বুলেন্সে রোগী উঠানো | — |
| ১২:০০ | কোটাপাড়া | স্থানীয় চক্র অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখে | ৪০ মিনিট |
| ১৩:২০ | জামতলা | পুনরায় অ্যাম্বুলেন্স আটক | ৫০ মিনিট |
| ১৫:৫০ | ঢাকার কাছাকাছি | রোগী মৃত্যুবরণ | — |
জমশেদ আলীর নাতি জোবায়ের হোসেন বলেছেন, “স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বাধার কারণে রোগী ঢাকার হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা যান। স্থানীয়দের সহায়তায় পরবর্তীতে আমরা ঢাকার পথে রওনা হতে পেরেছি।”
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক রাশেদ আহমেদ বলেন, “সকালে স্ট্রোক আক্রান্ত এক বয়স্ক রোগী ভর্তি হন। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পথে কী ঘটেছে তা আমরা জানি না।”
উল্লেখযোগ্য, গত বছরের ১৪ আগস্টও শরীয়তপুরে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট রোগী বহনকারী গাড়ি আটকে রেখেছিল। তখন একটি নবজাতক মারা যান।
শরীয়তপুর পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ আলম জানিয়েছেন, “মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযুক্ত অ্যাম্বুলেন্সচালক সুমন খান অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বলেন, “ঢাকায় চলাচলকারী একটি গাড়ি নিয়ে শুধু তথ্য জানতে চেয়েছিলাম, কোনো অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখিনি।”