খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জাতীয় নারী ফুটবল দলের হেড কোচ পিটার বাটলারকে ঘিরে বিতর্কের পরিসর ক্রমশ বাড়ছে। টানা দ্বিতীয়বার সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পরও বিভিন্ন অভিযোগে বিদ্রোহ করেছেন দলের অন্তত ১৮ জন খেলোয়াড়। বাফুফের হস্তক্ষেপে এক পর্যায়ে দূরত্ব কিছুটা কমলেও সাফজয়ী পাঁচ নারী ফুটবলার এখনও জাতীয় দলে ডাক পাননি। সাবিনা খাতুন, মাসুরা পারভীন, মাতসুশিমা সুমাইয়া, কৃষ্ণা রানী এবং সানজিদা আক্তারের মতো খেলোয়াড়রা বাটলারের ক্ষোভের জেরে বাদ পড়েছেন—যারা দেশের জন্য প্রথমবার ফুটসাল শিরোপা জিতেছেন।
বর্তমানে এশিয়ান কাপের প্রস্তুতি নিয়ে জাতীয় দলের ক্যাম্প চলছে। কিন্তু বয়সভিত্তিক অনূর্ধ্ব-১৯ দলের দায়িত্বও সামলাচ্ছেন বাটলার। এর ফলে নেপালে অনুষ্ঠিত ফাইনালে বাংলাদেশের মেয়েরা ৪-০ গোলে হেরে যায়। হারের পর সংবাদ সম্মেলনে হাজির না হয়ে তিনি কেবল রাতের কোনো ক্ষুদে বার্তায় দায় সেরেছেন। তার ব্যাখ্যা, ‘মেয়েরা শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত ছিল। আমি চেষ্টা করেছিলাম তাদের সতেজ রাখার, তবুও তারা পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল না।’
এটি নতুন ঘটনা নয়; বাটলারের জয়-পরাজয় নিয়ে মনোভাব বেশ পরিচিত—জয় হলে কৃতিত্ব নিজের, পরাজয় হলে দায় অন্যের ওপর চাপানো। এই দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ নিয়ে সংশয় আরও বাড়ে, যখন লীগে একই দলের বিরুদ্ধে হেসেখেলে জয়লাভের মাত্র তিন দিন পর ফাইনালে একহালি গোল হজম করতে হলো।
গত বছরের মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে বাংলাদেশের মেয়েরা চমকপ্রদ ফুটবল খেলতে সক্ষম হয় এবং মূলপর্বে স্থান করে নেয়। সেখানে তারা চীন, উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তানের মতো শক্তিশালী দলের সঙ্গে মুখোমুখি হবে।
নেপালে বয়সভিত্তিক দলের জন্য বাটলার প্রাথমিক স্কোয়াড গঠনেও পরীক্ষিত ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের বাদ দিয়েছেন। সাবিনা এবং মাসুরা ফর্মে থাকা সত্ত্বেও ডাক পাননি, কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ট্রায়াল শেষে সুইডেন প্রবাসী আনিকা রানিয়া সিদ্দিকীকে স্কোয়াডে রাখেন।
পোকহারা থেকে ঢাকায় ফিরে বাটলার আবার জাতীয় দলের দায়িত্ব নেবেন। এ সময় তিনি আফঈদা, মারিয়া, তহুরাদের মতো খেলোয়াড়দের অস্ট্রেলিয়ার প্রস্তুতির জন্য তৈরি করবেন। তবে ছকহীন ও দায়িত্বহীন কৌশল অব্যাহত থাকলে, এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বাটলারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড সংক্ষেপে
| বিষয় | বিবরণ | প্রভাব |
|---|---|---|
| সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ | ২য়বার জয় | ১৮ খেলোয়াড়ের বিদ্রোহ |
| বাদ পড়া খেলোয়াড় | সাবিনা খাতুন, মাসুরা পারভীন, মাতসুশিমা সুমাইয়া, কৃষ্ণা রানী, সানজিদা আক্তার | জাতীয় দলে ডাক নেই |
| অনূর্ধ্ব-১৯ দায়িত্ব | নেপালে ফাইনাল ৪-০ হার | খেলোয়াড় ক্লান্তি দায় |
| মূল জাতীয় দল | এশিয়ান কাপ প্রস্তুতি | প্রস্তুতিতে অনিশ্চয়তা |
| স্কোয়াড গঠন | অভিজ্ঞদের বাদ, নতুনদের সুযোগ | দলগত সামঞ্জস্যহীনতা |