খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২১ মে ২০২৫
স্থলবন্দর দিয়ে তৈরি পোশাকসহ কয়েকটি পণ্যের ভারতের আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে বাংলাদেশ ভারতের সরকারকে চিঠি পাঠিয়েছে।
এ নিয়ে দুই দেশের বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের বৈঠক করে সমাধান খোঁজার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০মে) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান জানান, ভারতের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে পালটা কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে বলা হবে, তারা ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তাই উভয় পক্ষ মিলে সমস্যার সমাধান করতে হবে।
বৈঠকে নৌপরিবহণ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এছাড়া ব্যবসায়ী প্রতিনিধি হিসেবে এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ ও ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্য সচিব আরও বলেন, ‘আমরা কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করব না। বরং পরিস্থিতি আরো অবনতি না হয় সেজন্য দুই দেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সমাধান খুঁজে বের করব।’
গত ১৭ মে ভারতের একটি প্রজ্ঞাপনে স্থলবন্দর দিয়ে তৈরি পোশাক, সুতা, প্লাস্টিক, কাঠের আসবাবপত্র, ফলসহ কিছু পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়। এতে বেনাপোল বন্দরে বিপুল পরিমাণ পণ্য আটকা পড়েছে। অন্য বন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ কঠিন ও ব্যয়বহুল হওয়ায় ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন।
বাণিজ্য সচিব জানান, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সচিব পর্যায়ের ফোরাম রয়েছে। বৈঠকের জন্য গত সপ্তাহে চিঠি পাঠানো হয়েছে, যার উত্তরের অপেক্ষায় তারা বসবে সমস্যার সমাধানে।
বাংলাদেশের ২৪টি বন্দরের মধ্যে ১৬টিতে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য হয়। এর মধ্যে বেনাপোল ও ভারতের পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে প্রায় ৮০ শতাংশ বাণিজ্য হয়। প্রতিদিন বেনাপোল দিয়ে ২৫০-৩০০ ট্রাক পণ্য ভারতে যায়, যার মধ্যে তৈরি পোশাকের অংশ বড়।
এই পদক্ষেপে শুধু বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা নয়, ভারতের ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে বাণিজ্য সচিব জানান। তাই উভয় পক্ষ মিলে সমাধানের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।