খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাঁদের তিন দফা দাবি আদায়ে টানা কয়েক দিন ধরে যেসব কর্মসূচি চালিয়ে আসছিলেন— তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আন্দোলনকারী শিক্ষকনেতারা জানান, বার্ষিক পরীক্ষার কথা বিবেচনা করেছেই এ সিদ্ধান্ত।
পরিষদ নেতাদের মতে, শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা ইতিমধ্যে ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। অনেক অঞ্চলে পরীক্ষা স্থগিত, কোথাও তালাবদ্ধ বিদ্যালয়, আবার কোথাও পুলিশি প্রহরায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত—সব মিলিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা উদ্বেগে আছেন। এই অবস্থায় শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।
বাংলাদেশে ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, যেখানে এক কোটির বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। সহকারী শিক্ষকের পদ অনুমোদিত ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২১৬টি; বর্তমানে কর্মরত ৩ লাখ ৫২ হাজারের বেশি শিক্ষক। এত বিশাল ব্যবস্থায় শাটডাউন ডাক দেওয়া মানে কার্যত দেশের প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম থমকে যাওয়া।
২৭ নভেম্বর শুরু হওয়া কর্মবিরতির কারণে চতুর্থ দিনের মতো দেশের নানা স্থানে বার্ষিক পরীক্ষা হয়নি। অভিভাবকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন, শিশুদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়ছে।
পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কঠোর পদক্ষেপ নেয়। আন্দোলনকারীদের মধ্যে বেশ কিছু শিক্ষককে ‘প্রশাসনিক কারণে’ বদলি করা হয়। আন্দোলনকারীরা মনে করেন, এটি আন্দোলন দমন করার একটি কৌশল।
প্রাথমিক শিক্ষা কাঠামোতে দীর্ঘদিনের বৈষম্য নিরসনই তাঁদের মূল লক্ষ্য। দাবিগুলো হলো—
১৩তম গ্রেড থেকে সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১১তম গ্রেডে উন্নীত করা
১০ ও ১৬ বছরে উচ্চতর গ্রেড লাভের জটিলতা সমাধান
সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে ১০০% বিভাগীয় পদোন্নতি
শিক্ষকদের যুক্তি—যোগ্যতা ও দায়িত্বের বিচারে তাঁরা অন্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর তুলনায় বেতন ও পদোন্নতিতে বঞ্চিত।
শাটডাউন স্থগিত হলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন এখনো অনিশ্চয়তায় রয়েছে। কারণ—
অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষক উপস্থিতি কম
তালাবদ্ধ হওয়ার কারণে পরীক্ষা পিছিয়েছে
যেসব পরীক্ষা হয়েছে সেগুলোর মূল্যায়ন কীভাবে হবে স্পষ্ট নয়
প্রাথমিক শিক্ষা বাংলাদেশের জনশিক্ষার ভিত্তি। সহকারী শিক্ষকরা এই ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি। তাঁদের অসন্তুষ্টি পুরো ব্যবস্থাকে নড়বড়ে করে তুলছে। স্থগিত কর্মসূচি সাময়িক স্বস্তি এনে দিলেও আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান না হলে আগামী দিনগুলোতে আরও বড় সংকট তৈরি হতে পারে।
শিক্ষকেরা জানিয়েছেন, তাঁদের দাবি পূরণে বাস্তব অগ্রগতি না হলে বার্ষিক পরীক্ষা শেষেই নতুন কর্মসূচিতে যাবেন।