খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫
ভূমিকম্পের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে ফাটল দেখা দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে হলগুলো খালি করে দেয় এবং শীতকালীন ছুটি এগিয়ে এনে কার্যত আবাসিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। ২৮ ডিসেম্বর থেকে হল খোলার সিদ্ধান্ত জানানো হলেও অনার্স চতুর্থ বর্ষ এবং মাস্টার্স চূড়ান্ত পরীক্ষার্থীরা অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন।
তবে আজ বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—চলমান সব পরীক্ষা নিয়মিতভাবে চলবে, যাতে শিক্ষার্থীদের সেশনজট আরও গভীর না হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী—
সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিনরা পরীক্ষা চালু রাখার সুপারিশ করেন
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর পরীক্ষাসূচি ধরে রাখার পক্ষে মত দেয়
বিভাগীয় একাডেমিক কমিটি শিক্ষার্থীদের সম্মতি নিয়ে বিষয়টি অনুমোদন করে
সাধারণ শিক্ষার্থী ও ডাকসুর আবেদনকে গুরুত্ব দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে হলে হলে থাকাকে অপরিহার্য মনে করেন। কিন্তু বর্তমানে হলগুলোতে সংস্কারকাজ চলছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশনা—
হলে থাকতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের লিখিত আবেদন করতে হবে
প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অস্থায়ী কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া হবে
হলে চলাচল সীমিত থাকতে পারে, কারণ সংস্কারকাজ অগ্রাধিকার পাবে
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করেছে।
ভূমিকম্পে কিছু হলের দেয়াল ও সিঁড়িতে ফাটল দেখা দেয়। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু হয়। অনেকে হল খালি করায় বিভিন্ন জায়গায় অস্থায়ীভাবে থাকতে বাধ্য হন। ফলে পরীক্ষার অনিশ্চয়তা তাঁদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছিল।
এই প্রেক্ষাপটে পরীক্ষাগুলো চালু রাখার সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের জন্য স্বস্তির হলেও, হল সংকট এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।
সেশনজট আগে থেকেই দীর্ঘ
গত কয়েক বছরে মহামারির কারণে পড়াশোনায় পশ্চাৎগামীতা
চাকরি ও উচ্চশিক্ষার আবেদন সময়সীমা পিছিয়ে যায়
দীর্ঘ বিরতিতে শিক্ষার্থীরা মানসিক চাপের মধ্যে পড়ে
বিশেষজ্ঞদের মতে, হল সংস্কারের পাশাপাশি একাডেমিক চালু রাখা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত।
শিক্ষার্থীরা যেন নিয়ম মেনে হলে থাকে
পরীক্ষা চলাকালে অনাকাঙ্ক্ষিত ভিড় বা আন্দোলন না হয়
ডাকসু ও হল সংসদ প্রতিনিধি পরীক্ষার্থীদের তালিকা ও কক্ষ ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করবে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত একদিকে শিক্ষার্থীদের সেশনজট কমাবে, অন্যদিকে নিরাপদ আবাসন নিশ্চিতের চাপও বাড়াবে। পরীক্ষার্থীদের জন্য এটি এক প্রকার স্বস্তি হলেও, সংস্কার কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যেতে হবে—এটি নিশ্চিত।