খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 8শে ভাদ্র ১৪৩২ | ২৩ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
গাজীপুরের শ্রীপুরে নারী পোশাকশ্রমিক তাছলিমা খাতুনের (৪০) মৃত্যুজনিত বিমা সুবিধার ৮০ হাজার টাকা তার স্বামী আজিজুল ইসলামের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওয়ার্ড বিএনপি নেতা নছ মিয়া ও তার সহযোগী আসাদ মিয়ার বিরুদ্ধে।
আরও ২০ হাজার টাকার জন্য ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় ভয়ে আজিজুল তার তিন সন্তানকে বাড়িতে রেখে অন্যত্র রাত্রিযাপন করছেন। উপায় না পেয়ে তিনি স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন। শুক্রবার (২২ আগস্ট) বিকেলে নিজ বাড়িতে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগী আজিজুল ইসলাম শ্রীপুর পৌরসভার বহেরারচালা এলাকার সাহেদ আলীর ছেলে। তার স্ত্রী তাছলিমা খাতুন ছিলেন একই এলাকার আফাজ উদ্দিনের মেয়ে। তাদের দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। তাছলিমা শ্রীপুরের লান্তাবুর অ্যাপারেলস লিমিটেড পোশাক কারখানার প্রিন্টিং সহকারী পদে চাকরি করতেন।
অভিযুক্ত নছ মিয়া শ্রীপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। তার সহযোগী আসাদ মিয়া ওই কারখানায় ইট-বালু সরবরাহ করেন।
ভুক্তভোগী আজিজুল ইসলাম। (ছবি : সংগৃহীত)
আজিজুল ইসলাম জানান, ২০১৯ সালের জুলাই মাসে তার স্ত্রী তাছলিমা লান্তাবুর অ্যাপারেলসে যোগ দেন। ২০২৪ সালের ৪ এপ্রিল কারখানায় কাজ করার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরের দিন ৫ এপ্রিল ভোরে স্ট্রোকজনিত কারণে নিজ বাড়িতে মারা যান। পরে শ্রমিক কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে তার মৃত্যুজনিত বিমা সুবিধার এক লাখ ৯৭ হাজার টাকা তার তিন সন্তানের পৃথক ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। এ টাকা পেতে অভিযুক্ত আসাদ ও নছ মিয়া তাকে সহযোগিতা করেন বলে জানান এবং এজন্য এক লাখ টাকা দাবি করেন। আজিজুল তার এক ছেলের অ্যাকাউন্ট থেকে ৬০ হাজার টাকা তুলে আসাদ মিয়াকে দেন। এরপর বাকি ৪০ হাজার টাকার জন্য আসাদ তাকে হুমকি দিতে থাকেন। একপর্যায়ে নছ মিয়া তাকে তার অফিসে ডেকে নিয়ে ভয় দেখিয়ে আসাদকে আরও ২০ হাজার টাকা দিতে বলেন। আজিজুল তখন ২০ হাজার টাকা দেন।
আজিজুল আরও অভিযোগ করেন, টাকার জন্য তারা তাকে মারধর করতে চায়। তিনি বলেন, “সব টাকা দিয়ে দিলে আমি মা-মরা তিন সন্তানকে নিয়ে কীভাবে চলব? এই টাকা দিয়ে একটি অটো কিনে সংসার চালানোর চিন্তা করছিলাম। বিএনপি নেতাদের হুমকির ভয়ে রাতে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে থাকতে হয়।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নছ মিয়া বলেন, তিনি শুনেছেন যে আসাদ টাকার অর্ধেক নেবে। আজিজুল আসাদকে ৬০ হাজার টাকা দিয়েছে এবং আরও ৪০ হাজার টাকার জন্য চাপ দিচ্ছে। তবে তিনি নিজে কোনো টাকা নেননি। তিনি বলেন, তিনি উভয়কে তার অফিসে ডেকে আজিজুলকে ২০ হাজার টাকা দিতে বলেন, যাতে ঝামেলা মিটে যায়। নছ মিয়া দাবি করেন, তিনি তাদের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে যাননি বা এ নিয়ে কোনো আলোচনা করেননি।
খবরওয়ালা/টিএসএন