খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক মহাসাগরের মাঝে অবস্থিত বিশাল দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে বৈজ্ঞানিক ও রাজনৈতিক উভয় ক্ষেত্রে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ডেনমার্কের আধা-স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চলের এই দ্বীপ নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতেও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে, যেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্প একসময় জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে এটি দখলের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে, সাম্প্রতিক সময়ে বৈজ্ঞানিক মহলে আলোচনার মূল বিষয় হয়েছে গ্রিনল্যান্ড হাঙ্গরের অজানা রহস্য।
গবেষকরা সম্প্রতি নিশ্চিত করেছেন যে, দীর্ঘদিন ধরে ‘অন্ধ’ হিসেবে পরিচিত এই হাঙ্গররা আসলে সম্পূর্ণ অন্ধ নয়। বরং এদের চোখ যথেষ্ট কার্যকর, আলো ও বৈপরীত্য শনাক্ত করতে সক্ষম। এ তথ্যটি আগের ধারণাকে পাল্টে দিয়েছে, যেখানে হাঙ্গরকে অলস, প্রায় অন্ধ, ধীরগতির একটি প্রাণী হিসেবে দেখানো হতো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাঙ্গরগুলো দেখতে ধীরে চলা বা মৃতপ্রায় হলেও এদের খাদ্যাভ্যাস আশ্চর্যজনক। এরা মৃত হরিণ, মেরু ভাল্লুক, নারওয়াল ও বেলুগা তিমিসহ বিভিন্ন প্রাণীর অবশিষ্টাংশ খেয়ে বাঁচে। তবে গবেষকরা মনে করেন, এটি কেবল মৃত প্রাণীই নয়, এরা মাঝে মাঝে শিকারও করতে পারে।
| বৈশিষ্ট্য | তথ্য |
|---|---|
| দৈর্ঘ্য | ২০ ফুট পর্যন্ত |
| জীবনকাল | অনুমানিত ২০০–৫০০ বছর |
| খাদ্যাভ্যাস | মৃত হরিণ, তিমি, নারওয়াল, বেলুগা এবং অন্যান্য জীবজন্তু |
| চোখের ক্ষমতা | আলো ও বৈপর্য্য চিহ্নিত করতে সক্ষম |
| চলাচল | ধীর গতির তবে গভীর তলদেশে সক্রিয় ডাইভিং |
| প্রজনন তথ্য | অজানা; শেষবার ১৯৫০ সালে অন্তঃসত্ত্বা হাঙ্গর নথিভুক্ত |
| অভিযোজন | কঠোর আর্কটিক পরিবেশে টিকে থাকার ক্ষমতা |
গবেষকরা জানান, হাঙ্গরের রেটিনা ঘন ও ত্রুটিমুক্ত, যদিও চোখের কর্নিয়ায় পরজীবী ‘কোপেপড’ দেখা যায়। জেনা এডওয়ার্ডস উল্লেখ করেন, “আমাদের কাছে এত সীমিত তথ্য থাকায় প্রতিটি পর্যবেক্ষণ একটি বড় ধাঁধার অংশ।”
বিশ্বখ্যাত হাঙ্গর বিশেষজ্ঞ নাইজেল হাসি ও পিএইচডি শিক্ষার্থী এরিক স্টে ম্যারি জানিয়েছেন, হাঙ্গরের চলাচল মন্থর মনে হলেও এরা সমুদ্রের তলদেশ ও জলপৃষ্ঠের মধ্যে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ডাইভ করে। পাখনা ব্যবহার করে সূক্ষ্ম নড়াচড়া সম্পাদন করা এবং অসাধারণ অভিযোজন ক্ষমতা তাদের ‘অবিশ্বাস্য প্রাণী’ হিসেবে চিহ্নিত করে।
তবে প্রজনন প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্যের অভাব, হাঙ্গরের দীর্ঘায়ু এবং খাদ্যচক্রের রহস্য এখনও অনিশ্চিত। এছাড়া, উষ্ণায়ন ও পরিবেশ পরিবর্তনের প্রভাব এদের আচরণ ও অবস্থানের উপর কীভাবে প্রভাব ফেলবে, তা বিজ্ঞানীদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নাইজেল হাসি মন্তব্য করেন, “এরা শুধু মৃত প্রাণী খেয়ে বাঁচে না। শিকার, অভিযোজন এবং টিকে থাকার কৌশল এদেরকে এক অত্যন্ত দক্ষ শিকারি ও প্রজনন সক্ষম প্রাণীতে পরিণত করেছে। আমাদের কল্পনার চেয়েও এরা অনেক বেশি চতুর।”
গ্রিনল্যান্ড হাঙ্গর শুধুমাত্র অজানা নয়, এটি বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এক নতুন দিশার প্রমাণ, যা মানবজ্ঞান ও প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতাকে সামনে নিয়ে আসে।