খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৩ জানুয়ারি ২০২৬
চট্টগ্রামে চলতি বছরও ‘সন্ত্রাসী’ সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদ ও তার সহযোগীদের নামে নানা ধরনের হিংস্র কর্মকাণ্ড ঘটেছে। নির্মাণাধীন ভবনের মালিক ও ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবি, চাঁদা না পেলে গুলি, প্রকাশ্যে হত্যাসহ নানান ঘটনায় চট্টগ্রামবাসী আতঙ্কিত। গত শুক্রবারও নগরের চন্দনপুরা এলাকায় এক ব্যবসায়ীর বাসায় গুলি করার ঘটনায় বড় সাজ্জাদের নাম এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ তার সহযোগীদের মাধ্যমে দেশে এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছেন।
চট্টগ্রামের চান্দগাঁও, বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশসহ বিভিন্ন থানার প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ তার বাহিনীর কারণে নিরাপদ বোধ করছেন না। গত দেড় বছরে অন্তত ১০টি হত্যাকাণ্ডে বড় সাজ্জাদের অনুসারীদের নাম উঠে এসেছে। পুলিশের মতে, কখনো আধিপত্য বজায় রাখার, কখনো ভাড়াটে খুনি হিসেবে তার অনুসারীরা হত্যাকাণ্ডে যুক্ত। তবে সাজ্জাদ আলী সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামীর চালিতাতলী এলাকার আবদুল গণির ছেলে সাজ্জাদ আলী। প্রথম আলোচনায় আসে ১৯৯৯ সালে পাঁচলাইশ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর লিয়াকত আলী খুনের ঘটনায়। ২০০০ সালের ১২ জুলাই ‘এইট মার্ডার’ হত্যা কাণ্ডে তিনি নেতৃত্ব দেন। ২০০০ সালের ১ অক্টোবর একে-৪৭সহ গ্রেপ্তার হলেও ২০০৪ সালে জামিনে কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বিদেশে পালিয়ে যান।
সাজ্জাদের দল শুরু হয় নুরনবী ম্যাক্সন, সরোয়ার হোসেন ও আকবর আলী নিয়ে। পরে বিভিন্ন সময় তাদের মধ্যে পরিবর্তন ঘটে, এবং ২০১৫ সাল থেকে ছোট সাজ্জাদ দলের কার্যক্রম চালান।
| তারিখ | এলাকা | ঘটনা | লক্ষ্য | ফলাফল |
|---|---|---|---|---|
| ১ আগস্ট ২০২৫ | চান্দগাঁও মোহরা | ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলি | মোহাম্মদ ইউনুস | আহত (বেঁচে যান) |
| ৫ নভেম্বর ২০২৫ | খন্দকারপাড়া | সরোয়ার হোসেন খুন | সরোয়ার হোসেন | নিহত |
| ২৩ মে ২০২৫ | পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত | আকবর আলীর হত্যাকাণ্ড | আকবর আলী | নিহত |
| ২৫ অক্টোবর ২০২৫ | রাউজান | যুবদল কর্মী আলমগীর খুন | আলমগীর আলম | নিহত |
| ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ | পাঁচলাইশ হামজার বাগ | নির্মাণাধীন ভবনে হামলা | ভবন মালিক | আহত/সম্পদ ক্ষতি |
পুলিশ জানিয়েছে, বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে অন্তত ২৫ জন সক্রিয় সন্ত্রাসী রয়েছেন। দেশের মূল নেতৃত্বে ছোট সাজ্জাদ। তার কারাগারে থাকা সত্ত্বেও মোহাম্মদ রায়হান ও মোবারক হোসেন ইমন দলের কার্যক্রম চালাচ্ছেন।
ছোট সাজ্জাদ ও রায়হানদের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা ও চাঁদাবাজি মামলা রয়েছে। ২০২৫ সালের বিভিন্ন ঘটনায় তাদের দোষপ্রমাণ সহ গ্রেপ্তার কার্যক্রম চলেছে। তবে দেশের নিরাপত্তা বাহিনী এখনও বড় সাজ্জাদকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ইন্টারপোলের মাধ্যমে চেষ্টা চালাচ্ছে।
বিদেশে বসে সন্ত্রাসী সাজ্জাদের কর্মকাণ্ড চট্টগ্রামে এক ধারা চালিয়ে যাচ্ছে, যা ব্যবসায়ী, সাধারণ নাগরিক ও পুলিশের জন্য এক দীর্ঘস্থায়ী চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া এবং অধরা সদস্যদের নিয়ন্ত্রণ সত্ত্বেও তার বাহিনী এখনও ভয়ঙ্কর অবস্থায় রয়েছে।