খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
বিশ্ব ফুটবলের পরাশক্তি ও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা লুইজিয়ানা কিংবা নিউ ইয়র্কের মেগা ফাইনালে এমন এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও চরম হতাশাজনক রেকর্ডের মুখোমুখি হয়েছে, যা দলটির গৌরবময় ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের মেগা ফাইনালে ইউরোপীয় পরাশক্তি স্পেনের মুখোমুখি হয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা। তবে শিরোপা ধরে রাখার এই চূড়ান্ত লড়াইয়ে স্প্যানিশদের আক্রমণাত্মক কৌশল এবং নিখুঁত ট্যাকটিকসের সামনে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ ছিল সম্পূর্ণ দিশেহারা ও নিষ্ক্রিয়।
ম্যাচ জুড়ে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যদের পারফরম্যান্স এতটাই ম্লান ছিল যে, নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলায় তারা প্রতিপক্ষের গোলপোস্ট লক্ষ্য করে একটি শটও নিতে পারেনি। বিশ্বকাপের ফাইনালের মতো মঞ্চে কোনো দলের এমন অসহায় আত্মসমর্পণ ফুটবল ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা।
খেলার প্রথমার্ধ থেকেই স্পেনের ফুটবলাররা মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের করে নেয়। তাদের শক্তিশালী ‘হাই-প্রেসিং’ ফুটবল এবং বল দখলের একচ্ছত্র আধিপত্যের কারণে আর্জেন্টিনার মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের মধ্যকার সংযোগ পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপের পর থেকে আন্তর্জাতিক ফুটবলের বড় কোনো মঞ্চে আর্জেন্টিনার প্রথমার্ধে কোনো শট না নেওয়ার রেকর্ড ছিল না। কিন্তু এই ম্যাচে প্রথমার্ধের সেই বন্ধ্যাত্ব কেবল নির্ধারিত ৯০ মিনিটই নয়, বরং খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়ালেও অব্যাহত থাকে।
ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে যখন অতিরিক্ত সময়ের খেলা শুরু হয়, তখনও খোলস ছেড়ে বের হতে পারেনি ল্যাটিন আমেরিকার দলটি। অতিরিক্ত সময়ের প্রথম ১৫ মিনিট, অর্থাৎ ম্যাচের ১০৫ মিনিট পর্যন্ত স্পেনের গোলমুখে কোনো শট নিতে ব্যর্থ হয় তারা। এর ফলে ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে টানা ১০৫ মিনিট পর্যন্ত কোনো শট নিতে না পারার চরম লজ্জার বিশ্ব রেকর্ডটি নিজেদের করে নেয় আর্জেন্টিনা।
স্পেনের সুসংগঠিত রক্ষণভাগ এবং মাঝমাঠে বল কেড়ে নেওয়ার দুর্দান্ত প্রবণতা আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডদের বোতলবন্দী করে রেখেছিল। বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের এমন ধারহীন ও আক্রমণহীন ফুটবল শুধু তাদের সমর্থকদেরই হতাশ করেনি, বরং ফুটবল বিশ্বকেও গভীরভাবে স্তব্ধ করেছে। ফুটবলের মহোৎসবে স্পেনের আধিপত্যের রাতে আর্জেন্টিনার এই নজিরবিহীন ব্যর্থতা চিরকাল ফুটবল ইতিহাসের পাতায় এক অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড হিসেবে লেখা থাকবে।