খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ই জুলাই ২০২৬, ১০:১৬ এএম
মানবাধিকারকর্মী ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জহিরুল হাসান (জেড আই) খান পান্নার মেয়ে নাদিমা মোহাম্মদী খান (৩৯) বরিশালে নিজ পৈতৃক বাসভবনে সংঘবদ্ধ হামলার শিকার হয়েছেন। পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ এবং চাঁদা দাবির জেরে এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যার দিকে বরিশাল নগরের সদর রোড এলাকার বাসভবনে এই ঘটনা ঘটে। হামলায় নাদিমা মোহাম্মদী খান গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তীকালে তাকে স্থানীয় শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় গত রবিবার (১৯ জুলাই) ভোরে ভুক্তভোগী নাদিমা মোহাম্মদী খান বাদী হয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় তার আপন চাচা নজরুল ইসলাম খানসহ মোট পাঁচজনকে নামীয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২৫-৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ তৎপরতা চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত অন্যতম আসামি তানজিয়া চাঁদনিকে (৩৫) ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্র থেকে জানা যায়, দীর্ঘ দিন ধরে নাদিমা মোহাম্মদী খানের পরিবারের সঙ্গে তার চাচা নজরুল ইসলাম খানের পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছিল। নাদিমা ও তার চাচাতো বোন শনিবার ঢাকা থেকে বরিশালের সদর রোডের পৈতৃক বাড়িতে আসেন। বাড়িতে আসার পর তারা দেখতে পান, কয়েকজন যুবক বাড়ির ভেতরে ময়লা-আবর্জনা ফেলে নোংরা পরিবেশ তৈরি করে রেখেছে এবং সেখানে প্রকাশ্যেই মাদক সেবন ও বেচাবিক্রি চলছে।
নাদিমা ও তার বোন এই অনৈতিক ও মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানান। প্রতিবাদ করার একপর্যায়ে উপস্থিত যুবকদের সঙ্গে তাদের বাগবিতণ্ডা হয়। এর কিছুক্ষণ পর, শনিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি সংঘবদ্ধ মাদকসেবী ও মাদক বিক্রেতাদের দল লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আকস্মিকভাবে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে নাদিমার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরে বিভিন্ন স্থানে জখম করে। একপর্যায়ে তাদের চিৎকার ও শোরগোল শুনে স্থানীয় এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসেন এবং নাদিমাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, হামলার পূর্বে আসামিরা নাদিমার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। সেই দাবিকৃত চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোই এই পরিকল্পিত হামলার মূল কারণ।
আহত নাদিমা মোহাম্মদী খান গণমাধ্যমকে বলেন:
“আমাকে পৈতৃক সম্পত্তি থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতে যাতে আমি আর এই বরিশালের বাড়িতে না আসতে পারি, সেই উদ্দেশ্যেই এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। আমার চাচা নজরুল ইসলাম খানের সরাসরি প্রশ্রয়, উসকানি এবং মদদেই এই মাদকসেবীদের দল আমার ওপর চড়াও হয়েছিল।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত চাচা নজরুল ইসলাম খানের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি, যার ফলে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নাদিমা মোহাম্মদী খানের দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তানজিয়া চাঁদনি নামের এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে। মামলার গভীরতা এবং মানবাধিকারকর্মীর কন্যার ওপর হামলার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং পলাতক প্রধান আসামিসহ অন্য অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের লক্ষ্যে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মন্তব্য