বলিভিয়ার মাঠে আজ ১-০ গোলে হারের মধ্যদিয়ে শেষ হলো ব্রাজিলের ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাই অভিযান। যদিও শেষ পর্যন্ত টিকিট নিশ্চিত করলেও এবারের বাছাইপর্বের পারফরম্যান্স হয়তো দ্রুতই ভুলে যেতে চাইবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। দক্ষিণ আমেরিকার বাছাই ইতিহাসে এইবারের পারফরম্যান্সই ব্রাজিলের জন্য সবচেয়ে খারাপ বলে মনে করা হচ্ছে।
আজকের হারের পর ১৮ ম্যাচে ব্রাজিলের সংগ্রহ দাঁড়ালো ২৮ পয়েন্টে, যা সাফল্যের হার ৫১ শতাংশ। দক্ষিণ আমেরিকার পয়েন্ট তালিকায় ব্রাজিল এখন পঞ্চম স্থানে। পুরনো নিয়মে পঞ্চম স্থানে থাকলে ব্রাজিলকে প্লে-অফ খেলতে হতো।
তবে এবার নতুন ৪৮ দল বিশিষ্ট বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী, দক্ষিণ আমেরিকার শীর্ষ ছয় দল সরাসরি ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলতে পারবে। সুতরাং, শীর্ষ ছয় দলের মধ্যে থাকা ব্রাজিল আগামী বছর জুনে কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপে সরাসরি অংশগ্রহণ করবে।
দক্ষিণ আমেরিকার বাছাই পর্বে ব্রাজিলের ওপরে শেষ করেছে আর্জেন্টিনা (৩৮ পয়েন্ট), ইকুয়েডর (২৯ পয়েন্ট), কলম্বিয়া (২৮ পয়েন্ট) ও উরুগুয়ে (২৮ পয়েন্ট)। গোল ব্যবধানের কারণে কলম্বিয়া ও উরুগুয়ের পিছনে থেকে ব্রাজিল পাঁচে অবস্থান করছে। যদিও বাছাইপর্বে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি কার্লো আনচেলত্তির দল, তবু ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে নবম হওয়ায় তারা পট ১ থেকে বিশ্বকাপের ড্রয়ে অংশ নেবে।
বাছাইপর্বে একের পর এক ধাক্কা খাওয়া ব্রাজিলকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এই সময়ে তিনজন ভিন্ন কোচ দায়িত্ব পালন করেছেন—ফার্নান্দো দিনিজ, দরিভাল জুনিয়র এবং কার্লো আনচেলত্তি।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, গত মার্চে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৪-১ গোলের হার ছিল ব্রাজিলের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ। এছাড়াও ২০২৩ সালের নভেম্বরে মারাকানায় আর্জেন্টিনার কাছে ১-০ গোলে হারের প্রতিও ব্রাজিলের জন্য বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা। সেই ম্যাচে প্রথমবারের মতো তারা ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে হেরেছে।
দক্ষিণ আমেরিকার বর্তমান বাছাইপর্ব (১০ দলের হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে) ১৯৯৬ সাল থেকে চালু হয়েছে। হিসাব করলে, এবারই প্রথমবার ব্রাজিল ৩০ পয়েন্টের কমে শেষ করেছে। এর আগে সবচেয়ে খারাপ পারফরম্যান্স ছিল ২০০২ সালের বাছাইয়ে। তখনও দক্ষিণ কোরিয়া–জাপানে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে শেষ পর্যন্ত তাদের পঞ্চমবারের বিশ্বকাপ জয়ের পথে কোনো বাধা আসেনি।
উল্লেখযোগ্য, ১৯৯৪ বিশ্বকাপ জেতার কারণে ১৯৯৮ এবং আয়োজক হওয়ায় ২০১৪ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অংশ নিতে হয়নি ব্রাজিলকে। এই দুই আসরে তারা সরাসরি বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলেছে।
আজকের হারের পর কোচ কার্লো আনচেলত্তি বলেছেন, ‘আজকের ম্যাচের ইতিবাচক দিক হলো দলের এবং খেলোয়াড়দের প্রচেষ্টা। এখানে খেলা অত্যন্ত কঠিন ছিল। খেলোয়াড়েরা অসাধারণ চেষ্টা করেছে। ম্যাচটি কৌশলগত এবং শারীরিকভাবে খুবই জটিল ছিল।’
এছাড়া তিনি যোগ করেছেন, ‘যদিও বাছাইপর্ব কিছুটা বাজেভাবে শেষ হলো, আমি পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী যে দল ২০২৬ বিশ্বকাপে সফল হবে এবং প্রতিটি খেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। আজকের ম্যাচ সবদিক থেকে বিশেষ ছিল।’
খবরওয়ালা/শরিফ



