খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ব্রাজিল জাতীয় দলে ধীরে ধীরে কাঠামোগত শৃঙ্খলা ও কৌশলগত ধারাবাহিকতা গড়ে তুলছেন ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। সাম্প্রতিক সময়ের প্রস্তুতি ম্যাচ ও প্রতিযোগিতামূলক লড়াই মিলিয়ে তার অধীনে এখন পর্যন্ত আটটি ম্যাচ খেলেছে সেলেসাওরা। ফলাফল খুব একটা ঝলমলে না হলেও, দলের খেলার ধরণে স্থিতিশীলতা ফিরছে—রক্ষণে সংগঠন, মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণে গতি ও সৃজনশীলতার ভারসাম্য আনাই আনচেলত্তির মূল লক্ষ্য। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বর্তমান ফর্ম ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে তিনি একটি প্রায় ‘নিশ্চিত’ প্রথম একাদশের রূপরেখা দাঁড় করিয়েছেন বলে স্থানীয় ক্রীড়া বিশ্লেষকদের ধারণা।
সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো—এই প্রাথমিক নিশ্চয়তার তালিকায় নেই ব্রাজিলের পোস্টারবয় নেইমার জুনিয়রের নাম। দীর্ঘদিনের ইনজুরি ও ফিটনেস ওঠানামার কারণে তার অন্তর্ভুক্তি এখনো কোচিং স্টাফের চিকিৎসা ও পারফরম্যান্স মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করছে। আনচেলত্তির দর্শনে ব্যক্তিগত তারকাখ্যাতির চেয়ে সাম্প্রতিক ফর্ম, মাঠে অবদান এবং ট্যাকটিক্যাল মানানসই হওয়াই মুখ্য—এই বার্তাটিই যেন স্পষ্টভাবে ফুটে উঠছে।
গোলরক্ষকের জায়গায় নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে আলিসন বেকারের অবস্থান প্রায় অটল। রক্ষণভাগে অভিজ্ঞ মার্কিনিউসের সঙ্গে গ্যাব্রিয়েলের জুটি আস্থার কেন্দ্রবিন্দু। ফুলব্যাক পজিশনে আক্রমণ-রক্ষণে ভারসাম্য আনতে ওয়েসলি ও ডগলাস সান্তোসকে বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। মাঝমাঠে কাসেমিরোর অভিজ্ঞতা ও প্রতিপক্ষের ছন্দ ভাঙার ক্ষমতার সঙ্গে ব্রুনো গিমারেসের বল কন্ট্রোল ও পাসিং গেম মিলিয়ে একটি স্থিতিশীল কেন্দ্র গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।
আক্রমণভাগে আনচেলত্তির আস্থাভাজনদের মধ্যে রয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রোদ্রিগো ও রাফিনিয়া—তিনজনই গতিময় ট্রানজিশন ও উইং প্লে-তে কার্যকর। তরুণ প্রতিভা এস্তেভাওকে ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হিসেবে ধরা হচ্ছে। ম্যাথিউস কুনহা ও গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি মূল একাদশে না থাকলেও রোটেশনে এসে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন। জোয়াও পেদ্রোকে বিকল্প স্ট্রাইকার হিসেবে পরিস্থিতিভেদে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
নিচের টেবিলে আনচেলত্তির ভাবনায় থাকা সম্ভাব্য ‘নিশ্চিত’ একাদশ ও রোটেশন অপশন সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিভাগ | নিশ্চিত হিসেবে বিবেচিত খেলোয়াড় | সম্ভাব্য রোটেশন |
|---|---|---|
| গোলরক্ষক | আলিসন বেকার | — |
| সেন্টারব্যাক | মার্কিনিউস, গ্যাব্রিয়েল | — |
| ফুলব্যাক | ওয়েসলি, ডগলাস সান্তোস | — |
| মাঝমাঠ | কাসেমিরো, ব্রুনো গিমারেস | — |
| উইং/ফরোয়ার্ড | ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রোদ্রিগো, রাফিনিয়া, এস্তেভাও | মার্টিনেল্লি, ম্যাথিউস কুনহা, জোয়াও পেদ্রো |
এই কাঠামোয় আনচেলত্তির সম্ভাব্য একাদশ দাঁড়ায়: আলিসনের সামনে ওয়েসলি–মার্কিনিউস–গ্যাব্রিয়েল–ডগলাস সান্তোস; মাঝমাঠে কাসেমিরো ও ব্রুনো গিমারেস; আক্রমণে এস্তেভাও, রাফিনিয়া, রোদ্রিগো ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এতে করে দলটি দ্রুত উইং আক্রমণ, মাঝমাঠে প্রেসিং ও রক্ষণে কমপ্যাক্ট ব্লকের সমন্বয়ে খেলতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ব্রাজিলের প্রস্তুতি এখন ফলাফলের চেয়ে পরিচিত একটি খেলাধারা গড়ে তোলায় বেশি মনোযোগী। নেইমারের অন্তর্ভুক্তি ফিটনেসে নির্ভরশীল থাকলেও, বর্তমান কাঠামো বিশ্বকাপের মঞ্চে শিরোপার দাবিদার হয়ে ওঠার মতো গভীরতা ও ভারসাম্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে।