খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শিনজিয়াং প্রদেশে শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে উরুমকি–কোরলার এক্সপ্রেসওয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, ২২.১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ তিয়ানশান শেংলি টানেলটি চালু করা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এটি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ এক্সপ্রেসওয়ে টানেল হিসেবে স্বীকৃত।
উত্তর-পশ্চিম চীনের শিনজিয়াং উইঘুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের মধ্য দিয়ে বিস্তৃত তিয়ানশান পর্বতমালা ভেদ করে নির্মিত এই সুড়ঙ্গটি আগে কয়েক ঘণ্টার ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি যাত্রাকে মাত্র ২০ মিনিটে সমাধান করেছে। চায়না কমিউনিকেশনস কনস্ট্রাকশন কোম্পানির চেয়ারম্যান সং হাইলিয়াং জানিয়েছেন, এটি দুটি বিশ্বরেকর্ড স্থাপন করেছে—বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ এক্সপ্রেসওয়ে টানেল এবং মহাসড়ক সুড়ঙ্গগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গভীর উল্লম্ব শাফটের অধিকারী।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তিয়ানশান শেংলি টানেলটি জি-০৭১১ উরুমকি–ইউলি এক্সপ্রেসওয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা উত্তর ও দক্ষিণ শিনজিয়াংয়ের শহরাঞ্চলগুলোকে সংযুক্ত করবে।
প্রায় ২,৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ তিয়ানশান পর্বতমালা শিনজিয়াংয়ের মধ্যভাগজুড়ে বিস্তৃত, যা উত্তরের প্রাদেশিক রাজধানী উরুমকিকে দক্ষিণের বড় শহর কোরলার সঙ্গে আলাদা করে রেখেছে। এক্সপ্রেসওয়ের চালু হওয়ায় উরুমকি ও কোরলার মধ্যে যাত্রার সময় প্রায় সাত ঘণ্টা থেকে কমে তিন ঘণ্টায় নেমে এসেছে।
নির্মাণে পাঁচ বছর সময় লেগেছে, এক্সপ্রেসওয়ের মোট দৈর্ঘ্য ৩২৪.৭ কিলোমিটার এবং মোট ব্যয় হয়েছে ৪৬.৭ বিলিয়ন ইউয়ান (প্রায় ৬.৬৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)।
নিচের টেবিলে তিয়ানশান শেংলি টানেল ও সংশ্লিষ্ট এক্সপ্রেসওয়ের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| বৈশিষ্ট্য | তথ্য |
|---|---|
| টানেলের নাম | তিয়ানশান শেংলি টানেল |
| দৈর্ঘ্য | ২২.১৩ কিমি |
| স্থাপন স্থান | শিনজিয়াং, চীন |
| অংশ | জি-০৭১১ উরুমকি–ইউলি এক্সপ্রেসওয়ে |
| যাত্রা সময় সাশ্রয় | প্রায় ৭ ঘণ্টা → ২০ মিনিট (টানেল) |
| এক্সপ্রেসওয়ের মোট দৈর্ঘ্য | ৩২৪.৭ কিমি |
| নির্মাণকাল | ৫ বছর |
| নির্মাণ ব্যয় | ৪৬.৭ বিলিয়ন ইউয়ান (৬.৬৩ বিলিয়ন USD) |
| বিশ্বরেকর্ড | ১. দীর্ঘতম এক্সপ্রেসওয়ে টানেল ২. গভীরতম উল্লম্ব শাফট সহ মহাসড়ক সুড়ঙ্গ |
এভাবে চালু হওয়া এই প্রকল্প চীনের দক্ষিণ-উত্তর শিনজিয়াং সংযোগকে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করেছে এবং স্থানীয় জনসাধারণ ও পর্যটকদের যাতায়াতকে আরও নিরাপদ ও দ্রুত করেছে।