খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই আগস্ট ২০২৬, ৭:৫০ পিএম
লক্ষ্মীপুরে জমি কেনার ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও বয়োবৃদ্ধ নারীকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যার মামলায় আবু বকর ছিদ্দিক নামে এক স্থানীয় জামায়াত নেতাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে লক্ষ্মীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করলে তা নামঞ্জুর করে তাঁকে হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতে সোপর্দ করা আবু বকর ছিদ্দিক জেলার কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি ইউনিয়ন জামায়াতের রুকন এবং ওই ইউনিয়নের চর সামছুদ্দিন গ্রামের বাসিন্দা আলী উল্লাহ হাওলাদারের ছেলে।
মামলার বিবরণ ও স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত সালেহা বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে নৃশংসভাবে হত্যার পেছনে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে আবু বকরের নাম উঠে আসে। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে যে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেয়, তাতে তিনি অন্যতম অভিযুক্ত আসামি। নিহত সালেহার সঙ্গে আবু বকরের গোপন বিয়ে হয়েছিল, যদিও পরবর্তীতে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। জমি কিনে দেওয়ার কথা বলে সালেহার কাছ থেকে নগদ ৩০ লাখ টাকা নেন আবু বকর। তবে জমি না দিয়ে উল্টো আরও ২০ লাখ টাকা দাবি করলে তাঁদের সম্পর্কে চরম টানাপোড়েন তৈরি হয়। পাওনা টাকার চাপ এড়াতে এবং অপরাধ ঢাকতে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে সেলিম নামের এক ভাসমান অপরাধীকে ভাড়া করেন আবু বকর।
২০২৫ সালের ১৫ জুন দিবাগত রাতে কমরগঞ্জের মতিরহাট সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীরের এক নির্জন ভিটায় নিয়ে যাওয়া হয় সালেহাকে। সেখানে তাঁকে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পরদিন ১৬ জুন পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।
তদন্তে নেমে কমলনগর থানা পুলিশ ঘটনার জট খোলে এবং ঘটনার সাথে জড়িত ভাড়াটে খুনি সেলিমকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সেলিম জানায়, নির্জন স্থানে নিয়ে সালেহাকে অচেতন ও নির্যাতন করার পর শ্বাসরোধে হত্যা করে সে। এরপর নিহতের কাছে থাকা স্বর্ণালংকার লুট করে পালিয়ে যায়। জবানবন্দিতে সেলিম স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে যে, জামায়াত নেতা আবু বকর ছিদ্দিকের দেওয়া চুক্তির টাকা ও প্ররোচনাতেই সে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে।
সেলিমের স্বীকারোক্তি ও পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে আবু বকর ছিদ্দিক ও সেলিম—দুই জনকেই অভিযুক্ত করে আদালতে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। সেলিম আগে থেকেই কারাগারে থাকলেও আবু বকর এতদিন আত্মগোপনে ছিলেন। আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে তিনি আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন।
আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী আমজাদ হোসাইন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মূল পরিকল্পনাকারী আসামি আবু বকর জামিন চাইতে এলে আদালত জামিন নাকচ করে তাঁকে সরাসরি কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন।
অন্যদিকে, নিহত সালেহা বেগমের ছেলে শরীফ উদ্দিন ও আরিফুল ইসলাম জানান, আবু বকর ছিদ্দিক স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক পরিচয়ের অন্তরালে এক অনৈতিক ও বিতর্কিত জীবনযাপন করে আসছিলেন। এর আগেও তিনি একাধিক বিয়ে করেছেন। অর্থলোভে স্বজনদের অগোচরে তাঁদের মাকেও ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেন এবং পরবর্তীতে টাকা হাতিয়ে নিয়ে ভাড়াটে খুনি দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করান। ভুক্তভোগী পরিবার আদালতের কাছে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই আসামিরই দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসির দাবি জানিয়েছে।
মন্তব্য