খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই আগস্ট ২০২৬, ৭:৩১ পিএম
ঢাকার কেরানীগঞ্জে এসি ল্যান্ড ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর এবং রেজিস্টার নম্বর জালিয়াতি করে বিবিধ মামলার (মিস কেইস) আবেদন জমা দেওয়ার অপরাধে চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জালিয়াতির মাধ্যমে ফাইলিংয়ের এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সুমন ও কামরুল হাসান শাহিন নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তবে প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর সুমনকে পুলিশে সোপর্দ করা হলেও মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে অপর অভিযুক্ত শাহিনকে।
গতকাল সোমবার কেরানীগঞ্জ মডেল ভূমি অফিসে এই জালিয়াতি ধরা পড়ে এবং এসি ল্যান্ড জান্নাতুল মাওয়া নিজ কার্যালয়ে বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে নিশ্চিত করেন।
আটক ও পরবর্তীতে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় যাচাই করে জানা গেছে, ছাড়া পাওয়া কামরুল হাসান শাহিন কেরানীগঞ্জ মডেল থানা বিএনপির সভাপতি শামীম হাসানের ভাই। অন্যদিকে, পুলিশের কাছে সোপর্দ করা সুমন স্থানীয় জিনজিরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা মামুনের ভাই বলে নিশ্চিত করেছে একাধিক সূত্র।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা ভূমি অফিস সূত্র জানায়, কেরানীগঞ্জের ঐতিহাসিক মান্দাইল মৌজার অন্তর্গত ৫৮ শতাংশ মূল্যবান জমির মালিকানা সংক্রান্ত বিষয়ে একটি মিস কেইসের শুনানি ধার্য ছিল গতকাল। নির্দিষ্ট সময়ে শুনানি চলাকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল মাওয়া নথিপত্র এবং ফাইলের কাগজপত্র গভীরভাবে যাচাই-বাছাই শুরু করেন। নথিপত্র নিরীক্ষার একপর্যায়ে তিনি দেখতে পান যে, ফাইলের গায়ে দেওয়া সহকারী কমিশনারের দাপ্তরিক স্বাক্ষরটি নিখুঁতভাবে নকল করা হয়েছে। কেবল স্বাক্ষরই নয়, রেজিস্টারে উল্লিখিত মামলা নম্বরটিও ছিল সম্পূর্ণ ভুয়া ও জাল। অধিকন্তু, মামলার যে মূল বাদী, শুনানির সময় তিনিও অনুপস্থিত ছিলেন।
তাত্ক্ষণিকভাবে জালিয়াতি হাতেনাতে ধরা পড়ার পর নথিপত্র জমাদানকারী সুমন এবং তাঁর সঙ্গে থাকা সহযোগী কামরুল হাসান শাহিনকে কার্যালয়ের ভেতরেই আটক করা হয়।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল মাওয়া জানান, বিবিধ মামলার শুনানি করার সময় একটি নতুন ফাইলের কাগজপত্রে অমিল চোখ পড়ে। পরীক্ষা করে দেখা যায়, দাপ্তরিক স্বাক্ষর ও রেজিস্টার নম্বর—দুটোই জালিয়াতি করে বসানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত সুমন স্বাক্ষর ও নম্বর জাল করার বিষয়টি নিজের মুখে স্বীকার করেছেন।
সুমনকে তাৎক্ষণিকভাবে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে সুমনের সঙ্গে থাকা শাহিন নিজেকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দিলেও অনুসন্ধানে দেখা গেছে তিনি সনদপ্রাপ্ত কোনো আইনজীবী নন। পরবর্তীকালে তিনি এই স্বাক্ষর জালিয়াতি বা জালিয়াতির প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নন—এমন একটি লিখিত প্রতিশ্রুতি ও মুচলেকা প্রদান করলে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সুমনের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়েরের উদ্দেশ্যে তাঁকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য