খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি ২০২৬
সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ বৃহস্পতি চলতি সপ্তাহে পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে আসতে চলেছে। জ্যোতির্বিদ ও আকাশপ্রেমীদের জন্য এটি এক অনন্য ও দুর্লভ সুযোগ, কারণ রাতে আকাশে খালি চোখেই বৃহস্পতিকে স্পষ্টভাবে ধরা যাবে। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃহস্পতির অবস্থান এই সময়ে জেমিনি নক্ষত্রমণ্ডলের দুটি উজ্জ্বলতম তারা ‘ক্যাস্টর’ ও ‘পোলাক্স’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি অসম ত্রিভুজ গঠন করবে। বৃহস্পতির মেঘাচ্ছন্ন পৃষ্ঠ সূর্যালোককে খুবই প্রতিফলিত করে, যার ফলে এটি অনেক দূরে থাকা সত্ত্বেও পৃথিবী থেকে অত্যন্ত উজ্জ্বল দেখা যায়। প্রকৃতপক্ষে, বৃহস্পতির ব্যাসমান পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ১১ গুণ বেশি, যা এটিকে অন্য কোনো গ্রহের চেয়ে আলাদা এবং বিশাল প্রমাণ করে।
এই সময় বৃহস্পতি পৃথিবীর সঙ্গে সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে থাকবে, যা প্রায় ৬৩৩ মিলিয়ন কিলোমিটার দূরে। সূর্যের আলো বৃহস্পতিতে পৌঁছতে প্রায় ৪৩ মিনিট সময় নেয়, আর সেই প্রতিফলিত আলো পৃথিবীতে পৌঁছতে প্রায় ৩৫ মিনিট সময় লাগে।
জ্যোতির্বিদরা জানিয়েছেন, ৯ জানুয়ারি রাতে পূর্ব আকাশের দিকে তাকালে খালি চোখেই বৃহস্পতিকে সহজে চেনা যাবে। যদি বাইনোকুলার ব্যবহার করা হয়, তবে বৃহস্পতির চারটি বৃহত্তম উপগ্রহও দেখা সম্ভব। আরও বিস্তারিতভাবে, ১০ গুণ ক্ষমতার বা তার চেয়েও শক্তিশালী ছোট টেলিস্কোপ ব্যবহার করলে গ্রহটির মেঘাচ্ছন্ন পৃষ্ঠের গঠনও পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
নিচের টেবিলে বৃহস্পতির মূল তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| বৈশিষ্ট্য | তথ্য |
|---|---|
| গ্রহের ব্যাস | পৃথিবীর ১১ গুণ |
| পৃথিবীর কাছাকাছি অবস্থান | প্রায় ৬৩৩ মিলিয়ন কিমি |
| আলো পৌঁছানোর সময় (সূর্য→বৃহস্পতি) | প্রায় ৪৩ মিনিট |
| আলো প্রতিফলিত হয়ে পৃথিবীতে পৌঁছানোর সময় | প্রায় ৩৫ মিনিট |
| অবস্থান দেখার সেরা সময় | ৯ জানুয়ারি, পূর্ব আকাশ |
| প্রধান উপগ্রহ দেখার মাধ্যম | ১০x বা তার বেশি ক্ষমতার বাইনোকুলার/টেলিস্কোপ |
বৃহস্পতির এই নিকটতম অবস্থান আকাশপ্রেমীদের জন্য এক চমকপ্রদ দৃশ্যাবলী তৈরি করবে। বিশেষজ্ঞরা সবাইকে সতর্ক করেছেন, খালি চোখে পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে, কিন্তু আরও গভীর দৃষ্টির জন্য উপযুক্ত বাইনোকুলার বা টেলিস্কোপ ব্যবহার করা উত্তম।
এটি কেবল একটি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা নয়, বরং সাধারণ মানুষকেও রাতের আকাশের সৌন্দর্য আরও কাছ থেকে দেখার সুযোগ প্রদান করছে।