পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং মহাসড়কে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদার করতে মোতায়েন করা হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ১০ প্লাটুন সদস্য। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
আন্দোলনরত শ্রমিকেরা জানিয়েছেন, বেতন বৃদ্ধির দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তাঁদের দাবি, শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বিবেচনায় নিয়ে মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা প্রয়োজন। তবে এ বিষয়ে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো নতুন প্রস্তাব বা দাবির বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
অন্যদিকে, পরিস্থিতি শান্ত করা এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের দাবিদাওয়া সম্পর্কে জানার পাশাপাশি তাঁদের সড়ক থেকে সরে এসে যান চলাচল স্বাভাবিক করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
এদিকে পোশাকশ্রমিকদের অসন্তোষ শুধু গাজীপুরেই সীমাবদ্ধ নেই। এর আগের দিন রোববার (১ নভেম্বর) রাজধানীর মিরপুর এবং সাভারের আশুলিয়ায়ও শ্রমিকদের মধ্যে বিক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়। শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে আশুলিয়ার অন্তত ৫০টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
সেদিন সকাল থেকে মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও মিরপুর-১২ নম্বরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন পোশাকশ্রমিকেরা। এতে ওই এলাকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কর্মস্থলে যাওয়া ও সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে পড়তে হয়। গণপরিবহন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিকল্প পথে যাতায়াত করতে বাধ্য হন অনেক যাত্রী।
এর আগের দিন শনিবার (৩১ অক্টোবর) একই দাবিতে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছিলেন শ্রমিকেরা। ধারাবাহিক এসব কর্মসূচির কারণে রাজধানী ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে পোশাক খাতের শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম। তাঁর দাবি, শ্রমিকদের বিক্ষোভের সঙ্গে সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো চক্র যুক্ত হয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারে।
মহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের জন্য ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এখন বোর্ডের মাধ্যমেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে। বিষয়টি শ্রমিকদের বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও তাঁরা সড়ক ছাড়তে রাজি হননি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কোনো সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী গোষ্ঠী যুক্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে কি না, সে বিষয়েও আশঙ্কা রয়েছে।
পোশাকশিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান খাত। এ খাতে কর্মরত বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের জীবিকা, দেশের রপ্তানি আয় এবং শিল্প উৎপাদন সরাসরি জড়িত। ফলে শ্রমিক অসন্তোষ দীর্ঘায়িত হলে কারখানার উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা থাকে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক অবরোধের কারণে পণ্য পরিবহন ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতও ব্যাহত হয়।
বর্তমানে শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবি, মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম এবং প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতি পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সমাধান না এলে গাজীপুরসহ আশপাশের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।


