খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফেনী-৩ (সোনাগাজী ও দাগনভূঞা) আসনে নির্বাচনি প্রচারণার প্রথম দিনেই রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি, ২০২৬) দুপুরে দাগনভূঞা উপজেলার ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের এতিমখানা বাজার এলাকায় এক বিশাল গণসংযোগে অংশ নিয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এবং এই আসনের প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু ধর্মকে রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহারের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি ভোটারদের সতর্ক করে বলেন, পরকালের মুক্তি বা বেহেশতের চাবিকাঠি কোনো দল বা ব্যক্তির হাতে নেই, এটি সম্পূর্ণ সৃষ্টিকর্তার ইখতিয়ার।
নির্বাচনি প্রচারকালে আবদুল আউয়াল মিন্টু অভিযোগ করেন যে, একটি প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারী ভোটারদের বিভ্রান্ত করছে। তিনি বলেন, “মা-বোনদের বলা হচ্ছে নির্দিষ্ট একটি প্রতীকে ভোট দিলে তাঁরা বেহেশতে যেতে পারবেন। এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও প্রতারণামূলক। বেহেশত শুধু আল্লাহর হাতে, অন্য কারও হাতে নয়। বেহেশতের টিকিট কোনো রাজনৈতিক দল বিক্রি করতে পারে না।” তিনি ভোটারদের এই ধরনের ধর্মীয় প্রলোভনে পা না দেওয়ার আহ্বান জানান।
আবদুল আউয়াল মিন্টুর নির্বাচনি অঙ্গীকার ও সতর্কবার্তাসমূহ:
| বিষয় | বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ ও প্রতিশ্রুতি |
| উন্নয়ন পরিকল্পনা | নির্বাচিত হলে শিক্ষা, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার ব্যাপক উন্নয়ন। |
| নারী ভোটার | সোনাগাজী ও দাগনভূঞায় নারী ভোটারদের প্রাধান্য দিয়ে তাঁদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা। |
| তথ্য সুরক্ষা | জাতীয় পরিচয়পত্র ও বিকাশ নম্বর অপরিচিত কাউকে না দেওয়ার কঠোর নির্দেশনা। |
| ধর্মীয় অবস্থান | রাজনীতির সাথে ধর্মকে মিশিয়ে ভোট চাওয়ার অপচেষ্টা বন্ধের আহ্বান। |
| সাংবিধানিক দায়িত্ব | ভোটাধিকার রক্ষা করাকে নাগরিকদের প্রধান পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে অভিহিত করা। |
প্রার্থী মিন্টু তাঁর বক্তব্যে একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের কথা তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু লোক ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) তথ্য এবং বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে। তিনি একে ডিজিটাল কারচুপি বা জালিয়াতির পূর্বলক্ষণ হিসেবে অভিহিত করেন। জনগণকে সতর্ক করে তিনি বলেন, “আপনার ব্যক্তিগত তথ্য কোনো রাজনৈতিক কর্মী বা অপরিচিত মানুষের কাছে দেবেন না। এটি আপনার নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে।”
নির্বাচনি প্রচারের প্রথম দিনটি আবদুল আউয়াল মিন্টু অত্যন্ত ব্যস্ততার সাথে পার করেন। সকালে তিনি তাঁর নিজ গ্রাম আলাইয়াপুরে মা-বাবার কবর জিয়ারত করার মাধ্যমে দিন শুরু করেন। এরপর মুন্সি বাড়ির দরজা, তালতলা, এতিমখানা বাজার এবং দুধমুখা বাজারে গণসংযোগ করেন। দুপুরে দাগনভূঞা সদরে একটি জানাজায় অংশগ্রহণ শেষে বিকেলে তিনি ফাজিলের ঘাট বাজার, পুলারহাট ও মকবুলের ট্যাকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভোটারদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। প্রতিটি সভায় বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিপুল উৎসাহে অংশগ্রহণ করেন।
ফেনী-৩ আসনে কেবল বিএনপি নয়, অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও প্রচারণায় সরব হয়েছেন। জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. ফখরুদ্দীন ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। বৃহস্পতিবার তিনি দাগনভূঞার সিলোনিয়া ও দরবেশহাট বাজার এলাকায় বড় ধরনের গণসংযোগ করেন। ফলে এই আসনে একটি বহুমাত্রিক নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
আবদুল আউয়াল মিন্টুর এই বক্তব্য মূলত নির্বাচনের মাঠে ধর্মীয় উস্কানি ও তথ্য চুরির বিরুদ্ধে একটি শক্ত অবস্থান। ভোটারদের সচেতন করা এবং রাজনৈতিক সহনশীলতার বার্তা দেওয়ার মাধ্যমেই তিনি তাঁর নির্বাচনি যুদ্ধের শুভ সূচনা করেছেন। সাধারণ ভোটাররা আশা করছেন, প্রার্থীরা পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঊর্ধ্বে উঠে উন্নয়নের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা পেশ করবেন।