২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরে প্রত্যাশিতভাবে শীর্ষস্থানটি পাননি মেসি। এবারের পুরস্কার জিতেছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন। অন্যদিকে, তালিকায় পঞ্চম স্থানে থেকে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করেছেন মেসি। বয়স ও দীর্ঘ ক্যারিয়ারের নানা অর্জনের বিবেচনায় এই অবস্থানই তাঁকে এনে দিয়েছে নতুন রেকর্ডের স্বীকৃতি।
ব্যালন ডি’অরের ফল ঘোষণার সময় মেসির বয়স ছিল ৩৯ বছর চার মাস। এই বয়সে আউটফিল্ড খেলোয়াড় হিসেবে পুরস্কারের সেরা পাঁচে জায়গা পাওয়া তাঁর অসাধারণ ধারাবাহিকতারই প্রমাণ। সাধারণত বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একজন ফুটবলারের গতি, শারীরিক সক্ষমতা ও মাঠে প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা কমতে থাকে। কিন্তু মেসি এখনো বিশ্বের শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলারদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে চলেছেন।
আধুনিক ফুটবলে দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পারফর্ম করা অত্যন্ত কঠিন। ক্লাব ফুটবলের পাশাপাশি জাতীয় দলের হয়ে নিয়মিত খেলা, চোট সামলানো এবং প্রতিযোগিতার চাপ মোকাবিলা করতে হয় একজন খেলোয়াড়কে। সেই বাস্তবতায় ৩৯ বছর বয়সেও ব্যালন ডি’অরের সেরা পাঁচে থাকা মেসির ক্যারিয়ারের বিশেষ এক অর্জন।
তবে সব ধরনের খেলোয়াড়কে বিবেচনায় নিলে ব্যালন ডি’অরের সেরা পাঁচে জায়গা পাওয়া সবচেয়ে বয়স্ক ফুটবলারের রেকর্ডটি মেসির নয়। এই কীর্তি রয়েছে ইতালির কিংবদন্তি গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি বুফনের দখলে। ২০১৭ সালের ব্যালন ডি’অরে চতুর্থ স্থান অর্জনের সময় তাঁর বয়স ছিল ৩৯ বছর ১০ মাস। গোলরক্ষক হিসেবে তাঁর এই অর্জন এখনো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
মেসির রেকর্ডটি মূলত আউটফিল্ড খেলোয়াড়দের মধ্যে সীমাবদ্ধ। গোলরক্ষকদের বাদ দিয়ে হিসাব করলে তাঁর আগে আর কেউ এত বেশি বয়সে ব্যালন ডি’অরের সেরা পাঁচে জায়গা করে নিতে পারেননি। ফলে পুরস্কার জিততে না পারলেও ব্যক্তিগত অর্জনের তালিকায় নতুন একটি মাইলফলক যোগ হয়েছে তাঁর।
২০২৬ সাল মেসির জন্য জাতীয় দলের ফুটবলেও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে দিতে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত শিরোপা জেতা হয়নি আলবিসেলেস্তেদের। ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন শেষ হয় তাদের।
বিশ্বকাপের শিরোপা জিততে পারলে মেসির ব্যালন ডি’অরের অবস্থান আরও ভালো হতো কি না, তা নিয়ে আলোচনা থাকতেই পারে। তবে ব্যক্তিগত পুরস্কারের ফলাফল শুধু বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করে না। পুরো মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে অবদান, ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান এবং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পারফরম্যান্সও বিবেচনায় আসে।
মেসির ক্যারিয়ার এর আগেও অসংখ্য ব্যক্তিগত স্বীকৃতি ও দলীয় সাফল্যে সমৃদ্ধ হয়েছে। ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে তাঁর নাম বহুবার আলোচিত হয়েছে। এবারও শীর্ষ পুরস্কারটি না পেলেও বয়সের হিসাবে নতুন রেকর্ড গড়ে দেখিয়েছেন, ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সামর্থ্য এখনো হারাননি তিনি।
শেষ পর্যন্ত ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে মেসির পঞ্চম স্থান হয়তো শিরোপার আনন্দ এনে দেয়নি। কিন্তু ৩৯ বছর বয়সেও বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের তালিকায় নিজের জায়গা ধরে রাখা তাঁর দীর্ঘস্থায়ী শ্রেষ্ঠত্বেরই আরেকটি প্রমাণ।


