খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় ফুটবলপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা করছে আরেকটি বহুল প্রতীক্ষিত লড়াই। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের উদীয়মান শক্তি নরওয়ে। রোববার (৫ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করতে দুই দলই মরিয়া, আর ম্যাচের আগে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন নরওয়ের গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড।
গত কয়েক বছরে ইউরোপীয় ফুটবলে নিজের অসাধারণ গোল করার ক্ষমতা দিয়ে আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছেন হালান্ড। তার উপস্থিতি নরওয়ের আক্রমণভাগকে যেমন ভয়ংকর করে তুলেছে, তেমনি প্রতিপক্ষের জন্যও তৈরি করেছে বাড়তি সতর্কতার কারণ। তাই ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তিও এই ম্যাচকে সামনে রেখে হালান্ডকে ঘিরেই বিশেষ পরিকল্পনা সাজিয়েছেন।
ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি ইঙ্গিত দিয়েছেন, নরওয়ের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হালান্ড হলেও তাকে থামানোর মতো প্রস্তুতি রয়েছে ব্রাজিলের রক্ষণভাগের। অভিজ্ঞ এই ইতালিয়ান কোচের বিশ্বাস, দলগত রক্ষণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল খেলতে পারলে হালান্ডের প্রভাব অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই ভিন্ন এক কারণে আলোচনায় উঠে এসেছেন নরওয়ের এই তারকা স্ট্রাইকার। প্রতিপক্ষ হলেও ব্রাজিলের প্রতি নিজের দীর্ঘদিনের ভালোবাসার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে হালান্ড বলেন, ছোটবেলা থেকেই ব্রাজিলের খেলা দেখে বড় হয়েছেন তিনি। দেশটির ফুটবল ঐতিহ্য, সৃজনশীল খেলার ধরণ এবং কিংবদন্তি খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স তাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করেছে।
হালান্ড বলেন, “ব্রাজিল এমন একটি দল, যাদের খেলা আমি ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি। তাদের দলে সবসময় অসাধারণ সব ফুটবলার ছিল। তাই তাদের বিপক্ষে মাঠে নামা আমার জন্য সত্যিই বিশেষ একটি অভিজ্ঞতা।”
তিনি আরও বলেন, ব্রাজিল শুধু একটি জাতীয় দল নয়, বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাস, সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীক। ফুটবল নিয়ে ভাবলেই ব্রাজিলের অসংখ্য কিংবদন্তি খেলোয়াড়ের কথা মনে পড়ে। এমন একটি দলের বিপক্ষে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলতে পারা যে কোনো ফুটবলারের জন্যই গর্বের বিষয়।
সাক্ষাৎকারের শেষদিকে সমর্থকদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত কিন্তু হৃদয়স্পর্শী একটি বার্তাও দেন হালান্ড। তিনি বলেন, “আমি ব্রাজিলকে ভালোবাসি।” তার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেক ব্রাজিলিয়ান সমর্থকও প্রতিপক্ষ দলের এই তারকার এমন অকপট স্বীকারোক্তিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন।
তবে আবেগ আর বাস্তবতার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য টেনে দিয়েছেন হালান্ড। ব্রাজিলের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থাকলেও মাঠে নেমে তিনি নরওয়ের জার্সির প্রতি শতভাগ নিবেদিত থাকবেন। নিজের গোল করার সামর্থ্য কাজে লাগিয়ে দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলে নেওয়াই তার প্রধান লক্ষ্য।
অন্যদিকে, ব্রাজিলও চাইবে নিজেদের ঐতিহ্য ধরে রেখে শেষ আটে জায়গা নিশ্চিত করতে। একদিকে অভিজ্ঞতা ও শিরোপা জয়ের ইতিহাস, অন্যদিকে তরুণ উদ্যম ও আত্মবিশ্বাস—এই দুইয়ের লড়াইয়ে বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ উপভোগ করতে মুখিয়ে আছে ফুটবলপ্রেমীরা। হালান্ডের ব্রাজিলপ্রেম মাঠের বাইরে আলোচনার জন্ম দিলেও, মাঠের ৯০ মিনিটে জয়ই হবে দুই দলের একমাত্র লক্ষ্য।