ভারতের এক রাতের পরীক্ষা শিবম দুবের খেলা সম্পর্কে কী বলল

ভারতের চলমান টি২০ সিরিজে শিবম দুবের ব্যাটিংয়ে যে পরিবর্তন এসেছে, তা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হলো বিশাখাপত্তনমে অনুষ্ঠিত ম্যাচের দশম ওভারে। ভারতের রান-চেজের সময় দুবে প্রথম বলেই ১০১ মিটার দূরত্বে ছয় হাঁকালেন এবং পরের বলটি এক রান নিয়ে স্ট্রাইক ধরে রাখলেন। সেই মুহূর্তে স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হতো—দুবেকে কাবু করার জন্য পেসারকে বল দেওয়া। বিশেষ করে যেটি হলো তার “কৃপ্টোনাইট”।

কিন্তু বিপরীতে নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার পেসারের পরিবর্তে গ্লেন ফিলিপসকে, যিনি আংশিক অফস্পিনার, বল হাতে দেন। ভিজাগের পিচে যেখানে কিছু গ্রিপ ছিল, সেখানে স্পিনারকে নেওয়াই ছিল এক ব্যাটারের বিরুদ্ধে কৌশল।

এই ছোট্ট ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হলো, দুবের খেলা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে বিপক্ষ তাকে কেবল পেস দিয়ে চেপে ধরতে পারে না। এখন তার ব্যাটিংয়ে অনেক স্তর এসেছে, যা তাকে ভারতের টি২০ দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্যে পরিণত করেছে।

এর আগের কিছু বড় মুহূর্তও তার এই বিকাশের প্রমাণ বহন করে। ২০২৪ টি২০ বিশ্বকাপ ফাইনালে ১৬ বলে ২৭ রান, এরপর এশিয়া কাপ ফাইনালে ২২ বলে ৩৩ রান, এবং হার্দিক পাণ্ড্য অনুপস্থিতিতে নতুন বল নেওয়া—সবই চাপের মুহূর্তে তার সক্ষমতার পরিচয়।

এই ভিজাগের ম্যাচ ছিল আরও ভিন্ন। সিরিজে ইতিমধ্যেই ৩-০ এগিয়ে থাকা ভারতের দল এই রাতটিকে পরীক্ষামূলক রূপে সাজালো। ইশান কিশানের অনুপস্থিতিতে ব্যাটিং লাইনকে প্রসারিত করা হয়েছে। রিঙ্কু সিংহকে চতুর্থ নম্বরে রাখা হলো, এবং প্রথম পাঁচ ওভারের বোলিং ভারতের পাঁচজন প্রধান বোলারের ওপর সীমাবদ্ধ ছিল।

সুর্যকুমার যাদব পরবর্তীতে বললেন, “আমরা আজ ইচ্ছাকৃতভাবে ছয় ব্যাটার খেলালাম। লক্ষ্য ছিল পাঁচজন নিখুঁত বোলারের সঙ্গে নিজেদের চ্যালেঞ্জ করা। যদি ২০০ বা ১৮০ রানের চেজ হয়, তখন দুই বা তিন উইকেট হারিয়ে আমরা কেমন অবস্থায় থাকি, সেটাই দেখার চেষ্টা।”

দুবের ব্যাট হাতে আসার সময় ভারতের জয়ের সম্ভাবনা ছিল মাত্র ২%। কিন্তু তিনি ২৩ বলে ৬৫ রান করে দলের চেজটিকে জীবন্ত রাখলেন। তার ৩৬ রান স্পিন থেকে, ২৯ রান পেস থেকে, যা নিশ্চিত করল নিউজিল্যান্ড একরকম বোলিং দিয়ে তাকে দমন করতে পারবে না।

প্রদর্শনী বিস্তারিত
ব্যাটসম্যান শিবম দুবে
ম্যাচ ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড, ভিজাগ
রান ৬৫ (২৩ বল)
হাফসেঞ্চুরি ১৫ বলে, ভারতীয় তৃতীয় দ্রুততম টি২০ হাফসেঞ্চুরি
রান স্পিন থেকে ৩৬ (স্ট্রাইক রেট ৪০০)
রান পেস থেকে ২৯ (১৪ বল)
ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনা দুবে আসার আগে: ২%
দুবে থাকার সময়: ৯%

স্যান্টনারও স্বীকার করেছেন, “দুবের কাছে বল দেওয়া মানে সে স্পষ্ট জানে কী করতে চায়। প্রথম বল হোক বা বিংশ বল, সে সর্বদা চেষ্টা করবে আক্রমণ চালাতে।”

দুব নিজেও বললেন, “অভিজ্ঞতা এবং ধারাবাহিক খেলায় আমার মানসিকতা উন্নত হয়েছে। আমি জানি বিপক্ষ কী করতে চায় এবং আমি কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাব।”

এই রাতটি স্পষ্ট করে দেখিয়েছে যে, ভারতের পরীক্ষামূলক পরিকল্পনায় দুবের ব্যাটই একমাত্র আশ্রয়। ম্যাচে জয় না এলেও, দুবের উপস্থিতিই একমাত্র ধারাবাহিক প্রতিরোধ হিসেবে ফুটে উঠেছে। নিউজিল্যান্ডের প্রতিক্রিয়াও তা প্রমাণ করে—এখন তার বিরুদ্ধে কৌশলগত পরিকল্পনা ছাড়া ম্যাচ চলানো কঠিন।

শিবম দুবে শুধুমাত্র আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান নন; তিনি এখন ভারতের টি২০ দলের সেই সদস্য, যাকে থামাতে বিপক্ষ সক্রিয়ভাবে চিন্তা করতে বাধ্য।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।