খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
রাশিয়ার কাছ থেকে সস্তায় অপরিশোধিত তেল কেনা চালিয়ে যাচ্ছে ভারত। তবে এই অবস্থান বেশিদিন ধরে রাখা সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক। তাঁর মতে, আগামী এক-দুই মাসের মধ্যেই নয়া দিল্লি আলোচনার টেবিলে ফিরতে বাধ্য হবে।
ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লুটনিক বলেন, আমি মনে করি এক বা দুই মাসের মধ্যেই ভারত বলবে— তারা সরি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে একটি চুক্তির চেষ্টা করবে।
তিনি সতর্ক করে জানান, যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন না করলে ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক বহাল থাকবে। এর অর্ধেকই হচ্ছে রাশিয়ার তেল কেনা অব্যাহত রাখার শাস্তি।
সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারত, রাশিয়া ও চীনের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে একই সঙ্গে ভারতকে ‘বিশেষ বন্ধু’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আমার সবসময় বন্ধুত্ব থাকবে।’
অন্যদিকে, ভারতীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, সস্তা ও সহজলভ্য হওয়ায় রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনা অব্যাহত রাখবে নয়া দিল্লি। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা আমাদের জাতীয় স্বার্থ ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেব। নিঃসন্দেহে রাশিয়ার তেল কেনা অব্যাহত থাকবে।’
ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এ অবস্থায় হতাশা প্রকাশ করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কেভিন হাসেট বলেন, ভারত রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ না করায় ট্রাম্প প্রশাসন বিরক্ত। তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি পাল্টাবে বলে তাদের আশা।
বিশ্লেষকদের মতে, বাণিজ্য ও শুল্ক ইস্যুতে টানাপড়েনের কারণে ভূরাজনৈতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কারণ চীনকে মোকাবিলা করতে ভারতের সমর্থন এখন ওয়াশিংটনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন প্রকাশ্যে তা স্বীকার করছে না।
খবরওয়ালা/শরিফ