খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 18শে পৌষ ১৪৩২ | ১ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ভারতের সঙ্গে গোপন বৈঠকের অভিযোগে প্রকাশিত একাধিক সংবাদকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে প্রকৃত তথ্য যাচাই না করে এ ধরনের সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (তারিখ উল্লেখ না থাকলেও) সকাল ৯টা ১৯ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে জামায়াত আমির এ মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারের বক্তব্য বিকৃত করে কিছু দেশীয় মিডিয়ায় যে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, তা দুঃখজনক এবং সাংবাদিকতার ন্যূনতম নীতিমালার পরিপন্থী।
ডা. শফিকুর রহমান তার ব্যাখ্যায় জানান, আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একজন সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করেছিলেন—ভারত যেহেতু বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাষ্ট্র, সেক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর কোনো যোগাযোগ, আলোচনা বা বৈঠক হয় কি না।
এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি যে বক্তব্য দেন, তা ছিল সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও খোলামেলা। তিনি বলেন, গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে অসুস্থতা থেকে সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরার পর দেশি-বিদেশি বহু শুভাকাঙ্ক্ষী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসেন। সেই ধারাবাহিকতায় ভারতের দুইজন কূটনীতিকও তার বাসায় এসে সাক্ষাৎ করেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন,
“এই সাক্ষাৎ অন্যান্য কূটনৈতিকদের সাক্ষাতের মতোই ছিল। এর মধ্যে কোনো গোপন বৈঠক, রাজনৈতিক দরকষাকষি কিংবা বিশেষ আলোচনা ছিল না।”
জামায়াত আমির আরও জানান, অন্যান্য দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়গুলো যেমন গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে, তেমনি ভারতীয় কূটনীতিকদের বিষয়টিও প্রকাশ করতে চাওয়া হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকরা তখন বিষয়টি প্রচার না করার জন্য অনুরোধ করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ভবিষ্যতে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক হলে তা অবশ্যই গণমাধ্যমের সামনে আনা হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন,
“আমাকে বিস্মিত করেছে যে, কিছু দেশীয় গণমাধ্যম এই সৌজন্য সাক্ষাৎকে ‘গোপন বৈঠক’ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। আমি এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন সংবাদের তীব্র নিন্দা জানাই।”
তিনি মনে করেন, এ ধরনের সংবাদ শুধু ব্যক্তি বা দলকে নয়, বরং গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| সাক্ষাৎকার | আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স |
| প্রশ্নের বিষয় | ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ বা বৈঠক |
| প্রকৃত ঘটনা | অসুস্থতার পর সৌজন্য সাক্ষাৎ |
| অংশগ্রহণকারী | ভারতের দুই কূটনীতিক |
| গোপন বৈঠক | হয়নি |
| প্রতিক্রিয়া | বিভ্রান্তিকর সংবাদের তীব্র নিন্দা |