খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সোনার অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর বড় প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে বিয়েশাদির মৌসুমে সোনার গয়না কেনাকে কেন্দ্র করে যে সামাজিক প্রথা দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ছিল, তা এখন ক্রমেই পরিবর্তিত হচ্ছে।
ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের শ্রীনগরের ২৯ বছর বয়সী উজমা বশির একজন হিসাবরক্ষক। আসন্ন বিয়েকে কেন্দ্র করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সোনার দামের ওঠানামা নজরে রাখছেন। তার মাসিক আয় সীমিত হওয়ায় তিনি পরিবারের ওপর চাপ না বাড়িয়ে নিজের উপার্জন থেকেই বিয়ের গয়না কেনার চেষ্টা করছেন। তার মতে, সোনা শুধু অলংকার নয়; এটি সামাজিক মর্যাদার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়।
দক্ষিণ এশিয়ার বহু অঞ্চলে বিয়েতে কনের জন্য সোনা দেওয়া ঐতিহ্যগত রীতি। এটি অনেক সময় পারিবারিক মর্যাদা ও সামাজিক অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হয়। পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে পারিবারিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে এক ধরনের আর্থিক সুরক্ষা হিসেবেও বিবেচিত হয়।
একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে বৈশ্বিক বাজারে সোনার দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে পরে কিছুটা কমলেও এখনো উচ্চ অবস্থানে রয়েছে। জানুয়ারিতে প্রতি আউন্স সোনার দাম সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫৯৫ মার্কিন ডলারে উঠেছিল, যা পরে কমে প্রায় ৪ হাজার ৮৬১ ডলারে নেমে আসে।
ভারতে অক্ষয় তৃতীয়া উৎসবকে কেন্দ্র করে ১০ গ্রাম সোনার দাম আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৬৭০ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণে। এতে দেশটিতে সোনার গয়নার চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
আন্তর্জাতিক স্বর্ণ পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভারতে সোনার গয়নার চাহিদা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৪ শতাংশ কমেছে।
| দেশ | গড় সোনার দাম | চাহিদার পরিবর্তন | বর্তমান প্রবণতা |
|---|---|---|---|
| ভারত | উচ্চ মূল্য (১০ গ্রাম ভিত্তিতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি) | ২৪ শতাংশ হ্রাস | নকল ও প্রলেপযুক্ত গয়নার দিকে ঝোঁক |
| বাংলাদেশ | প্রতি ভরি প্রায় ২ হাজার ৩৪ মার্কিন ডলার | চাহিদা কমছে | কম দামের গয়নার চাহিদা বৃদ্ধি |
| পাকিস্তান | প্রতি ভরি প্রায় ১ হাজার ৯৩৮ মার্কিন ডলার | প্রায় ৫০ শতাংশ বিক্রয় হ্রাস | ক্যারেট কমানো ও নকল গয়না বৃদ্ধি |
বাংলাদেশে বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, সোনার দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর সাধারণ মানুষের জন্য তা ক্রয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ঢাকার চকবাজারসহ বিভিন্ন বাজারে এখন নকল ও প্রলেপযুক্ত গয়নার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। কম দামের কারণে ক্রেতারা এসব গয়নার দিকে ঝুঁকছেন।
পাকিস্তানেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। সেখানে স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত এক বছরে গয়নার বিক্রি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। অনেক ক্রেতা এখন কম ক্যারেটের সোনা বা সম্পূর্ণ নকল গয়না কিনছেন। ফলে আসল সোনার গয়না ধীরে ধীরে উচ্চ আয়ের শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সোনার মূল্যবৃদ্ধির কারণে ক্রেতাদের আচরণে বড় পরিবর্তন এসেছে। অনেকেই এখন আসল সোনার পরিবর্তে এক গ্রামের সোনা বা প্রলেপযুক্ত গয়না কিনছেন, যা দেখতে প্রায় একই রকম হলেও তুলনামূলকভাবে অনেক সস্তা।
শ্রীনগরের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, বর্তমানে অনেক মানুষ সোনাকে দৈনন্দিন ব্যবহারযোগ্য অলংকারের চেয়ে বিনিয়োগ হিসেবে বেশি বিবেচনা করছেন। দীর্ঘমেয়াদে সোনার স্থিতিশীল মূল্য এটিকে নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে ধরে রাখছে।