খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৭ জানুয়ারি ২০২৬
ভেনেজুয়েলা তার ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল যুক্তরাষ্ট্রের হাতে সরবরাহ করার জন্য ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। চুক্তি অনুযায়ী, ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলারের সমমূল্যের তেল যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হবে।
এই চুক্তির ফলে ভেনেজুয়েলার তেলের প্রধান ক্রেতা চীনের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র হয়ে যাবে। এর মাধ্যমে ভেনেজুয়েলা তার তেল উৎপাদন হ্রাস এড়াতে পারবে এবং দেশটির অন্তর্বর্তী সরকার ট্রাম্পের দাবির প্রতি সাড়া দিয়েছে। ট্রাম্পের শর্ত ছিল, মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোকে দেশটিতে প্রবেশাধিকার দিতে হবে, নাহলে সামরিক হস্তক্ষেপের ঝুঁকি থাকছে।
ট্রাম্প আরও বলেছেন, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ দেশটির তেলশিল্পে যুক্তরাষ্ট্র ও বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে ‘পূর্ণ প্রবেশাধিকার’ দেবে। এর ফলে গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে আটকা পড়া লাখ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহে সুবিধা হবে।
ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি পরিস্থিতি নিম্নলিখিত টেবিলে সংক্ষেপ করা হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| রপ্তানি পরিমাণ | ৩–৫ কোটি ব্যারেল |
| বাজার মূল্য | মার্কিন বাজার অনুযায়ী |
| রপ্তানি লক্ষ্য | যুক্তরাষ্ট্র |
| বর্তমান প্রধান অংশীদার | শেভরন (Chevron) |
| দৈনিক রপ্তানি | ১–১.৫ লাখ ব্যারেল |
| চীনের ভূমিকা | প্রাথমিক প্রধান ক্রেতা, এখন সীমিত |
| নিষেধাজ্ঞা প্রভাব | ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ, ডলারে লেনদেন বন্ধ |
ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই তেল মার্কিন বাজারদরে বিক্রি করা হবে এবং প্রাপ্ত অর্থ তিনি নিয়ন্ত্রণ করবেন, যাতে তা ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়। মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট চুক্তি কার্যকর করার দায়িত্বে থাকবেন এবং তেল সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরে পাঠানো হবে।
গত এক দশক ধরে চীন ভেনেজুয়েলার প্রধান তেল ক্রেতা ছিল, তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে চীনের গুরুত্ব বেড়েছিল। এখন এ চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে তেলের সরবরাহ বাড়বে। শেভরন ভেনেজুয়েলা থেকে প্রতিদিন এক লাখ থেকে দেড় লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করছে এবং এটি চলমান অবরোধের মধ্যে একমাত্র কোম্পানি যা তেল উত্তোলন ও জাহাজীকরণ অব্যাহত রেখেছে।
তবে, তেল বিক্রির অর্থ ভেনেজুয়েলার হাতে পৌঁছাবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়, কারণ পিডিভিএসএর ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো জব্দ করা রয়েছে এবং কোম্পানি মার্কিন ডলারে লেনদেন করতে পারছে না।