খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভোলায় এক নারীকে নেশাজাতীয় পদার্থ দিয়ে অচেতন করার পর তার তিন মাসের শিশু কোল থেকে চুরি করার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনা পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হতে পারে। শিশুটিকে উদ্ধার করা হলেও, তার মাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।
গতকাল বুধবার ভোলা সদর উপজেলার একটি গ্রামে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সকালে শিশুটির মা স্থানীয় একটি ওষুধের দোকানে ওষুধ আনতে গেলে বোরকা পরিহিত এক নারী তার সামনে ২০০ টাকার একটি নোট বাড়িয়ে দেন। নোটটিতে নেশাজাতীয় পদার্থ মেশানো থাকতে পারে বলে পরিবার ধারণা করছে। নোটটি হাতে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মা অচেতন হয়ে পড়েন। এই সুযোগে ওই নারী শিশুটিকে কোল থেকে নিয়ে পালিয়ে যান। স্থানীয়রা মাকে উদ্ধার করে দ্রুত ভোলা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পর ঢাকার সঙ্গে সমন্বয় করে শিশুটিকে উদ্ধার করার অভিযান চালায়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. ইব্রাহিম জানান, তথ্য অনুযায়ী, এক নারী শিশুটিকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন এবং লঞ্চে সদরঘাটে যাচ্ছেন। খবর পেয়ে ইলিশা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) তাজীব ইসলাম ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. লিমন দ্রুত ঢাকায় যান। পরে সদরঘাট এলাকায় ‘দোয়েল পাখি-১০’ লঞ্চে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন নারীসহ শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, ওই নারীর তিন সন্তান রয়েছে এবং পারিবারিক কলহের জেরে তিনি কোলের শিশুটিকে এক স্বজনের কাছে দিতে চেয়েছিলেন। স্বজনের মেয়ে নিঃসন্তান হওয়ায় শিশুটিকে গ্রহণে আগ্রহী ছিলেন। এই প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে ঘটনার ‘সাজানো’ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
ঘটনার প্রাথমিক তথ্যসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| স্থান | ভোলা সদর উপজেলা, ভোলা জেলা |
| সময় | বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা |
| আক্রান্ত ব্যক্তি | তিন মাস বয়সী শিশু ও মা |
| অভিযুক্ত | বোরকা পরিহিত নারী, তিন সন্তানী মা |
| উদ্ধার | ঢাকা সদরঘাট, লঞ্চ ‘দোয়েল পাখি-১০’ থেকে |
| হাসপাতাল | ভোলা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল |
ভোলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, শিশুটির মাকে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ হেফাজতে রেখেছেন। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং পরিকল্পিত কিনা তা বোঝার জন্য তদন্ত এখনও চলছে। তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটি কোনো পারিবারিক জটিলতার সঙ্গে যুক্ত, তবে চূড়ান্ত তথ্য তদন্ত শেষে জানানো হবে।”
এই ঘটনার ফলে ভোলায় শিশু নিরাপত্তা ও পারিবারিক সহায়তার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশ উভয়ই শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছেন।