খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা চলাকালীন রাজধানীর মিরপুরে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি, ২০২৬) সকালে ঢাকা-১৫ আসনের নির্বাচনি প্রচারে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন নেতাকর্মীদের হাসপাতালে দেখতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। জামায়াত আমিরের মতে, ‘মব জাস্টিস’ বা বিশৃঙ্খল জনতা তৈরি করে জনমত প্রভাবিত করার অপরাজনীতি এখন আর ধোপে টিকবে না। তিনি দেশের সকল রাজনৈতিক পক্ষকে সহনশীল হওয়ার এবং জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
গত মঙ্গলবার মিরপুরের পীরেরবাগ এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীদের একটি ঘরোয়া নির্বাচনি বৈঠককে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। জামায়াতের অভিযোগ অনুযায়ী, বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাঁদের নারী কর্মীদের অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং পরবর্তীতে তাঁদের উদ্ধার করতে যাওয়া জামায়াত-শিবির কর্মীদের ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
তবে স্থানীয় পুলিশের ভাষ্য কিছুটা ভিন্ন। পুলিশ জানায়, জামায়াত কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করছিলেন, যা নিয়ে স্থানীয়দের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তথ্য সংগ্রহের বৈধতা নিয়ে তর্কের একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাদানুবাদ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত সারণি ও বর্তমান পরিস্থিতি:
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
| ঘটনাস্থল | পীরেরবাগ এলাকা, মিরপুর (ঢাকা-১৫ আসন)। |
| ঘটনার সময় | মঙ্গলবার বিকেল ও সন্ধ্যা। |
| মূল অভিযোগ | নারী কর্মীদের অবরুদ্ধকরণ এবং নেতাকর্মীদের ওপর হামলা। |
| আহতদের অবস্থা | বেশ কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। |
| আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা | পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন; তদন্ত চলমান। |
| নির্বাচনি পরিবেশ | এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি ও কড়া নজরদারি। |
আহতদের শয্যাপাশে দাঁড়িয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “মব করে জনমত প্রভাবিত করার দিন শেষ হয়ে গেছে। দুনিয়ার মানুষ এখন অনেক সচেতন। যদি কেউ নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে, তবে তা দেখার জন্য নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন রয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না।”
তিনি আরও যোগ করেন যে, বিগত ১৫ বছরের মতো আবারও যদি নির্বাচনি ময়দানকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হয়, তবে এদেশের জাগ্রত যুবসমাজ তা মেনে নেবে না। বিশেষ করে নারী কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাকে তিনি অত্যন্ত লজ্জাজনক ও পরিবারিক শিক্ষার অভাব হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “যারা আমাদের মায়েদের গায়ে হাত তুলেছে, তাদের ঘরে কি মা-বোন নেই? মা-বোনদের প্রতি সম্মান দেখানোর নূন্যতম সৌজন্যবোধ তাদের থাকা উচিত ছিল।”
নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, সরকার ও কমিশন যে সুষ্ঠু নির্বাচনের অঙ্গীকার করেছে, তা কেবল কথায় নয়, কাজেও প্রমাণ করতে হবে। প্রতিটি প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলকে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “জনগণের ওপর আস্থা রাখুন। শান্ত পরিবেশে ভোটারদের তাঁদের পছন্দের প্রতীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ দিন। ফল যাই হোক, বিজয়ী প্রার্থীকে অভিনন্দন জানানো এবং সহযোগিতা করাই প্রকৃত গণতন্ত্র।”
ঢাকা-১৫ আসনের এই সংঘাত নির্বাচনি প্রচারণার শুরুতেই রাজনৈতিক অস্থিরতার একটি ইঙ্গিত দিচ্ছে। মিরপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রধান দুটি রাজনৈতিক শক্তির এই মুখোমুখি অবস্থান সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়াচ্ছে। ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন যদি কঠোরভাবে আচরণবিধি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তবে প্রচারণা চলাকালীন এই ধরনের সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।