খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 15শে মাঘ ১৪৩২ | ২৮ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়ের দুর্গনগরীর পশ্চিম অংশে অবস্থিত বিষমর্দন এলাকায় চলমান প্রত্নতাত্ত্বিক খননে পাঁচটি বসতি কালের নিদর্শন পাওয়া গেছে। এই খনন কাজ শুরু হয়েছিল ১২ জানুয়ারি ২০২৬-এ, যেখানে ছয় সদস্যের একটি দল কাজ করছে এবং জানুয়ারির মধ্যেই এটি শেষ হওয়ার কথা। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খননকালে উদঘাটিত মন্দির ও অন্যান্য কাঠামোগুলো ৮০০ থেকে ১,০০০ বছর আগে নির্মিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, মহাস্থানগড়ের দুর্গনগরীর বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সময়ে খননে পাওয়া নিদর্শনগুলো মৌর্যপূর্ব, মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন এবং মুসলিম আমলের, যা প্রাচীন ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ইতিহাসের পরিচায়ক। খননে পাওয়া নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে ছাপাঙ্কিত সোনার কয়েন, পোড়া মাটির নকশাযুক্ত ফলক, মূর্তি, ধাতব ও পাথরের বিভিন্ন প্রত্নচিহ্ন, এমনকি যীশু খৃষ্টের জন্মের বহু বছর আগে তৈরি একটি মাটির চুলের নমুনাও রয়েছে।
খননের মূল লক্ষ্য ছিল দুর্গনগরীর ভিতরের বসতি ও চারপাশের বসতির সাথে সম্পর্ক খুঁজে বের করা। প্রত্নতত্ত্ববিদরা ধারণা করছেন, এখানে একটির পর একটি মন্দির নির্মাণ করা হয়েছিল, এবং সবচেয়ে নিচের কাঠামোটি প্রাচীন করতোয়া নদীর ফ্লাড প্যানের ওপর তৈরি। এই কাঠামো মৌর্য আমলের দুর্গনগড়ের প্রাচীরের সঙ্গে তুলনা করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের বগুড়া আঞ্চলিক পরিচালক এ.কে.এম সাইফুল রহমান জানিয়েছেন, খননে পাওয়া মন্দিরের অবকাঠামোগুলো পাল আমলে তৈরি ইট পুনঃব্যবহার করে ৪র্থ থেকে ১২শ শতকের মধ্যে নির্মিত হতে পারে। মাটির সমতল থেকে প্রায় ৫ মিটার উচ্চতায় বিভিন্ন পর্যায়ে মন্দিরগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। খননে পাওয়া অবকাঠামো দুর্গনগরীর ভিতরের অবকাঠামোগুলোর নির্মাণশৈলী ও সামগ্রীর সঙ্গে মিল রয়েছে।
গবেষণা সহকারী এস.এম. হাসানাত বিন ইসলাম জানান, খননে পাওয়া ইট ও মাটির কাঠামো প্রাচীন মন্দিরের বহু নির্মাণ পর্যায়ের সাক্ষ্য বহন করছে। দুর্গনগরীর পশ্চিমে ১০০ মিটার দূরে খননকৃত কিছু অবকাঠামো ধ্বংসপ্রাপ্ত, তবে খনন চলার সঙ্গে সঙ্গে আরও নতুন নিদর্শন পাওয়া আশা করা হচ্ছে।
মহাস্থান জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান রাজিয়া সুলতানা বলেন, “খননে নকশাযুক্ত ইট, পোড়া মাটির ফলক, ভাঙা মৃৎপাত্রের অংশ, নারী মূর্তির ভগ্নাংশ এবং শতশত প্রাচীন ইট উদ্ধার করা হয়েছে। ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামোর নিচে মাটির মধ্যে মৃৎপাত্রের আরও অনেক টুকরা পাওয়া গেছে।”
নিচের টেবিলে খননে পাওয়া মূল নিদর্শনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
| নিদর্শনের ধরন | বর্ণনা | সম্ভাব্য আমল |
|---|---|---|
| সোনার কয়েন | ছাপাঙ্কিত, প্রাচীন বাণিজ্যিক ব্যবহার | মৌর্যপূর্ব ও পাল আমল |
| মাটির ফলক | নকশাযুক্ত পোড়া মাটি | পাল আমল |
| ইটের অবকাঠামো | পুনঃব্যবহৃত ইট, বিভিন্ন উচ্চতায় মন্দির নির্মাণ | ৪র্থ–১২শ শতক |
| মূর্তি | পোড়া মাটির নারী মূর্তির ভগ্নাংশ | পাল ও সেন আমল |
| অন্যান্য নিদর্শন | মৃৎপাত্র, জালের কাঠি, পাথরের নিদর্শন | বিভিন্ন প্রাচীন আমল |
এই খননকাজ মহাস্থানগড়ের প্রাচীন সভ্যতার গভীর ইতিহাস ও স্থাপত্যশৈলীর মূল্যবান তথ্য প্রদান করবে, যা বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।