খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসে সম্প্রতি অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো ‘মাইলস্টোন স্পোর্টস ফেস্টিভ্যাল ২০২৬’। শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন, সহমর্মিতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের গ্লানি মুছে নতুন উদ্যমে পথচলার প্রেরণা জোগাতে এই বিশেষ ক্রীড়া উৎসবের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ক্রিকেট দলের অভিজ্ঞ ও জনপ্রিয় তারকা মুশফিকুর রহিম, যা শিক্ষার্থীদের মাঝে অভূতপূর্ব উদ্দীপনার সৃষ্টি করে।
২০২৫ সালের ২১ জুলাই মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ঘটে যাওয়া এক অনাকাঙ্ক্ষিত ট্র্যাজেডির পর শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। সেই দুঃসহ স্মৃতি কাটিয়ে তাদের মনে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা এবং নতুন আনন্দময় স্মৃতি তৈরির লক্ষ্যেই জাইকা বাংলাদেশ ও মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ যৌথভাবে এই ফেস্টিভ্যালের উদ্যোগ নেয়। আয়োজকদের মতে, খেলাধুলা ও সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ ও অনুপ্রেরণা ছড়িয়ে দেওয়া এবং তাদের মানসিক শক্তিকে দৃঢ় করাই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
মাইলস্টোন স্পোর্টস ফেস্টিভ্যাল ২০২৬-এর প্রধান আলোকপাত:
| আয়োজনের বিষয় | বিস্তারিত বিবরণ |
| আয়োজক সংস্থা | জাইকা (JICA) বাংলাদেশ ও মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ। |
| বিশেষ অতিথি | মুশফিকুর রহিম (জাতীয় ক্রিকেটার)। |
| সহযোগী সংস্থা | একমাত্রা এন্টারপ্রেনিউরস ও এমইউএফজি (MUFG) ব্যাংক লিমিটেড। |
| উদ্বোধনী প্রতীক | জাতীয় সংগীত ও পায়রা উড়িয়ে সূচনা। |
| মূল কার্যক্রম | বন্ধুত্বপূর্ণ ক্রিকেট ম্যাচ, মিনি বল থ্রো গেম ও বোর্ড গেম। |
| নতুন সংযোজন | শিক্ষার্থীদের জন্য ‘বোর্ড গেম ক্লাব’-এর শুভ উদ্বোধন। |
সকাল থেকেই দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসে এক উৎসবমুখর আমেজ বিরাজ করছিল। শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে সমবেত জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর শান্তি ও আশার প্রতীক হিসেবে নীল আকাশে পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করা হয়। অনুষ্ঠানে জাইকা বাংলাদেশের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ ইচিগুচি তোমোহিদে শিক্ষার্থীদের মানসিক শক্তি বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশে এমন অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই।”
মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক্সিকিউটিভ প্রিন্সিপাল রিফাত নবি আলম তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের সাহস ও ধৈর্যের প্রশংসা করে বলেন, এই আয়োজন তাদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া এমইউএফজি ব্যাংক বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডিরেক্টর কেনজি কিমুরা দলগত চিন্তার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
উৎসবের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর মুহূর্ত ছিল যখন মুশফিকুর রহিম নিজেই মাঠে নামেন। তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ ক্রিকেট ম্যাচে অংশ নেন। প্রতিযোগিতার জয়-পরাজয় ছাপিয়ে এই ম্যাচটি হয়ে ওঠে আনন্দ আর বন্ধুত্বের এক অনন্য উদাহরণ। এরপর ‘মিনি বল থ্রো গেম’-এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সবাই মিলে খেলায় মেতে ওঠে। একমাত্রা সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক ড. নিলয় রঞ্জন বিশ্বাস মনে করেন, খেলাধুলা ও সৃজনশীল কার্যক্রম শিশুদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করার সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে মুশফিকুর রহিম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এক অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি তাঁর দীর্ঘ ক্রিকেট ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, “আমি জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষাগুলো পেয়েছি সেই ম্যাচগুলো থেকে, যেগুলোতে আমি হেরেছিলাম।” তিনি শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং হারের গ্লানি কাটিয়ে পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোর শিক্ষা দেন। পরে তিনি শিক্ষার্থীদের করা নানা প্রশ্নের উত্তর দেন অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে।
এই ফেস্টিভ্যালের একটি স্থায়ী উদ্যোগ হিসেবে স্কুল প্রাঙ্গণে একটি ‘বোর্ড গেম ক্লাব’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এমইউএফজি ব্যাংকের সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত এই ক্লাবটি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, কৌশলগত চিন্তা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
মাইলস্টোন স্পোর্টস ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ কেবল একটি ক্রীড়া অনুষ্ঠান ছিল না, এটি ছিল শিক্ষার্থীদের মানসিক ক্ষত নিরাময়ের একটি মানবিক প্রয়াস। মুশফিকুর রহিমের মতো একজন তারকার সান্নিধ্য শিক্ষার্থীদের মাঝে যে আশার আলো জ্বালিয়েছে, তা তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা জীবনে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। জাইকা বাংলাদেশ এবং অন্যান্য সহযোগীদের এই সম্মিলিত প্রচেষ্টা সুস্থ ও সবল প্রজন্ম গড়ে তোলার পথে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।