খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
মাগুরা জেলায় চাঞ্চল্যকর কিশোর সুমন মোল্যা (১৬) হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। নিখোঁজের তিন দিন পর মরদেহ উদ্ধারের এই ঘটনায় তদন্ত শেষে পুলিশ জানিয়েছে, মাত্র একটি মুঠোফোন বন্ধক রাখাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে নিজ বন্ধুদের হাতেই নৃশংসভাবে প্রাণ দিতে হয়েছে এই কিশোরকে। বুধবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
নিহত সুমন মোল্যা মাগুরা পৌরসভার মীরপাড়া এলাকার শরিফুল ইসলামের ছেলে এবং পেশায় একজন রিকশাচালক ছিলেন। গত ৩১ মার্চ রাতে সুমন নিখোঁজ হন। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর তাকে খুঁজে না পেয়ে ২ এপ্রিল পরিবারের পক্ষ থেকে মাগুরা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এর পরদিন অর্থাৎ ৩ এপ্রিল বিকেলে দক্ষিণ মীরপাড়া মাঠপাড়া এলাকায় জনৈক আয়নাল মোল্লার মাছের ঘের সংলগ্ন একটি কলাবাগান থেকে সুমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মরদেহ উদ্ধারের পর ৪ এপ্রিল নিহতের দাদি জাহানারা বেগম বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে জানান, একটি মুঠোফোন বন্ধক রাখা নিয়ে সুমনের সঙ্গে অভিযুক্ত বন্ধুদের মনোমালিন্য চলছিল। গত ৩১ মার্চ রাত ১০টার দিকে বিষয়টি নিয়ে উভয়ের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা সুমনের মাথায় সজোরে আঘাত করলে তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। এরপর আসামিরা তাকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে পাশবিকভাবে মারধর করেন। সুমনের মৃত্যু নিশ্চিত করতে তারা শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করার পর সবশেষে শ্বাসনালি কেটে দিয়ে মরদেহটি কলাবাগানে ফেলে পালিয়ে যান।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের নাম ও বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
| ক্রমিক | নাম ও ডাকনাম | বয়স | স্থায়ী ঠিকানা/গ্রাম | গ্রেপ্তারের তারিখ ও স্থান |
| ০১ | মেহনাজ হোসেন ওরফে জিহাদ | ২৪ | মীরপাড়া, মাগুরা সদর | ৫ এপ্রিল, মাগুরা |
| ০২ | জুয়েল হোসেন | ২৩ | জুইতারা, মাগুরা সদর | ৫ এপ্রিল, মাগুরা |
| ০৩ | মো. শাকিব শেখ | ১৯ | মাগুরা সদর | ৫ এপ্রিল, মাগুরা |
| ০৪ | তরিকুল ইসলাম (মূল হোতা) | ২৬ | নিশ্চিন্তপুর, মাগুরা সদর | গতকাল রাতে, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ |
| ০৫ | হৃদয় হোসেন | ২৮ | নিশ্চিন্তপুর, মাগুরা সদর | গতকাল রাতে, কুকিলা গ্রাম, মাগুরা |
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিবর্গ সুমনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। তারা নিয়মিত গাঁজা ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্যে আসক্ত ছিলেন বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। গত রাতে নারায়ণগঞ্জ ও মাগুরা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া তরিকুল ইসলামসহ কয়েকজন আসামি হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।
পুলিশ সুপার আরও জানান, এই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃতদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হবে। একটি তুচ্ছ মুঠোফোন নিয়ে বিরোধের জেরে এমন পরিকল্পিত ও জঘন্য হত্যাকাণ্ড স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অধিকতর তদন্ত পরিচালনা করছে জেলা পুলিশ।