খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশে প্রতিদিনের মতোই খুনসহ নানা ধরনের গুরুতর অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন গড়ে ১০–১২টি হত্যাকাণ্ড ঘটছে। সরকারি তথ্যের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থার প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এই খুনের সংখ্যা প্রতিদিন দ্বিগুণ হারে বাড়ছে। হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতার সঙ্গে সরাসরি মাদকের সংযোগ আছে, এমন দাবি করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
মাদকাসক্তদের আচরণ প্রায়শই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তারা নিজের চারপাশের মানুষকেও নিজের আনন্দ ও উত্তেজনার অংশ হিসেবে ভাবতে শুরু করে। নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরও অনেক মাদকাসক্ত অপরাধী কোনো অনুশোচনা দেখায় না। রংপুরের আশরাফুল হত্যা কিংবা চাঁদপুরের আব্দুল খালেক হত্যার মতো ঘটনায় মাদক ও মানসিক বিকৃতির প্রভাব স্পষ্ট।
শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনলাইনে পর্নোগ্রাফি দেখার মাধ্যমে আগ্রাসী মনোভাব তৈরি করছে এবং ইয়াবা সেবনের মাধ্যমে এ প্রবণতা আরও তীব্র হচ্ছে। এ ধরনের যুবকরা নিয়মিত মাদক সেবনের মাধ্যমে আত্ম নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে এবং অপরাধে জড়াচ্ছে।
রাজধানীসহ দেশের সব অঞ্চলে মাদকের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। প্রত্যেক গ্রামে ইয়াবার সরাসরি বেচাকেনা হচ্ছে। গ্রামের মধ্যে হত্যা, ডাকাতি ও ছিনতাই ঘটাচ্ছে তরুণরা। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই প্রবণতা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে দেশের সুশাসন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল বলেছেন, “মাদকাসক্তদের মধ্যে তরুণরা সবচেয়ে বেশি। বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইয়াবার আসক্তি বাড়ছে। এই কারণে অপরাধও বৃদ্ধি পাচ্ছে।”
দেশে মাদক নির্মূলের জন্য কঠোর আইন প্রয়োগ ও সামাজিক আন্দোলনের বিকল্প নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সমাজ, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একত্রিত হয়ে মাদকবিরোধী কার্যক্রম চালাতে হবে।