খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
মাদারীপুর সদর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সদর উপজেলার মস্তফাপুর গোলচত্বরে টানা তিন ঘণ্টা ধরে চলা এই সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলে এলাকাজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষের জেরে মাদারীপুর-চাঁদপুর-শরীয়তপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের একাংশে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। এতে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রী ও যানচালকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সংঘর্ষরত পক্ষগুলোর সদস্যরা অন্তত ছয়টি দোকান ও চারটি বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মস্তফাপুর গোলচত্বর এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হাবিব হাওলাদার ও ইদ্রিস হাওলাদারের সঙ্গে শামচু সরদার ওরফে কোপা শামচুর দীর্ঘদিনের আধিপত্যগত বিরোধ রয়েছে। সম্প্রতি একটি বিস্ফোরক মামলায় শামচু সরদার র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে মুক্ত হন। অভিযোগ রয়েছে, জামিনে বেরিয়ে তিনি হাওলাদার পরিবারের এক কিশোরকে মারধর করেন। এ ঘটনার জের ধরেই দুপুরের পর উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে তাঁদের লক্ষ্য করেও ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও কৃষক দলের সদস্যসচিব অহিদুজ্জামান ঘটনাস্থলে গিয়ে মধ্যস্থতা করলে সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে শান্ত হয়। সন্ধ্যা ছয়টার পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে হানিফ সরদার (২৬) নামের একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আহতদের মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের লোকজনের হাতে টেঁটা, বল্লম, রামদা, সড়কি ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র দেখা গেছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ভীতি সৃষ্টি করে।
ইউপি সদস্য হাবিব হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, শামচু সরদার এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর মামলা রয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শামচু সরদার দাবি করেন, হাওলাদার গোষ্ঠীই প্রথম হামলা চালিয়েছে এবং আত্মরক্ষার্থেই পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনা জানান, পুলিশ, র্যাব, ডিবি ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| স্থান | মস্তফাপুর গোলচত্বর, মাদারীপুর সদর |
| সময়কাল | বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা |
| সংঘর্ষের কারণ | আধিপত্য বিস্তার |
| ককটেল বিস্ফোরণ | অর্ধশতাধিক |
| আহত | অন্তত ১০ জন |
| ক্ষয়ক্ষতি | ৬টি দোকান, ৪টি বসতঘর |
| সড়ক যোগাযোগ | প্রায় ২ ঘণ্টা বন্ধ |
| আইনশৃঙ্খলা বাহিনী | পুলিশ, র্যাব, ডিবি, সেনাবাহিনী |
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে এবং এলাকাবাসী দ্রুত স্থায়ী শান্তি ও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।