মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে দুই শতাধিক শিশু নিহত

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযান সম্প্রতি শিশুদের জীবনকে কঠোর হুমকিতে ফেলেছে। গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে ইরানে শুরু হওয়া এই হামলার কারণে প্রাণ হারিয়েছে প্রায় ২০০ শিশু। এই হামলার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহর।

জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইরানের ওপর এই সামরিক আগ্রাসনের ফলে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে বিপুল সংখ্যক শিশু নিহত হয়েছে। সংস্থার তথ্যানুযায়ী, শুধুমাত্র ইরানেই ১৮১ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এছাড়া লেবাননে সাত, ইসরাইলে তিন এবং কুয়েতে একজন শিশুর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে।

ইউনিসেফ বিশেষভাবে মিনাব শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ের কথা উল্লেখ করেছে। হামলার প্রথম দিনেই ওই স্কুলে চালানো হামলায় অন্তত ১৭৫ স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে বলে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে। এই স্কুলে শিশুরা নিরাপদ আশ্রয় ভেবেই অবস্থান করেছিল, কিন্তু হঠাৎ হামলার ফলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা সহায়তা পেতে পারেননি।

ইউনিসেফের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “শিশুরা কখনো যুদ্ধ শুরু করে না, তবুও তারা সর্বোচ্চ মূল্য দিচ্ছে। এই ধরনের সহিংসতা শিশুদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক উন্নয়নে স্থায়ী ক্ষতি করছে। বিশ্বকে এগিয়ে এসে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।”

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক এই হামলার ফলে শিশুদের ওপর পড়া প্রভাব ভয়ঙ্কর। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং নাগরিক এলাকা লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় পরিবারগুলোও অস্থির ও বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখোমুখি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের হামলা শুধু মৃত্যুই ঘটাচ্ছে না, বরং অপ্রাপ্ত বয়সের শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তার উপর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করছে।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য টেবিলে উপস্থাপন করা হলো:

বিষয় বিবরণ মন্তব্য
হামলার শুরু ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইরান কেন্দ্রীয় এলাকা
প্রাণহানি (মোট) প্রায় ২০০ শিশু ইরান: ১৮১, লেবানন: ৭, ইসরাইল: ৩, কুয়েত: ১
প্রধান প্রভাবিত এলাকা মিনাব, দক্ষিণ ইরান একটি বালিকা বিদ্যালয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য
বিদ্যালয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ১৭৫ শিশু বিপ্লবী গার্ড বাহিনী অনুযায়ী
অন্যান্য দেশ লেবানন, ইসরাইল, কুয়েত শিশুদের ক্ষতি এ অঞ্চলেও ঘটেছে
সংস্থা বিবৃতি ইউনিসেফ যুদ্ধ শিশুদের উপর ভয়ানক প্রভাব ফেলছে

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই ধরনের হামলা শিশুদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ও শারীরিক ক্ষতি সৃষ্টি করতে পারে। শিক্ষার বিপর্যয়, পরিবারহীন শিশু, স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি ও মানসিক ট্রমা এই যুদ্ধের সরাসরি পরিণতি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে শিশুদের নিরাপত্তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকে।

এছাড়া, মানবাধিকার ও শিশু অধিকার সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।