খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 22শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ৬ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বিশ্বজুড়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। চুক্তিভিত্তিক সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও কাতারসহ অন্যান্য দেশের কাছ থেকে সময়মতো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানির সম্ভাব্য বড় সংকট মোকাবিলার জন্য সরকার স্পট মার্কেট থেকে প্রায় দ্বিগুণ দামে দুইটি এলএনজি কার্গো ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
পেট্রোবাংলার সূত্র জানায়, এই দুই কার্গোর জন্য সরকার প্রায় দুই হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় করবে। তুলনামূলকভাবে, একই পরিমাণ এলএনজি গত মাসে ক্রয়ের জন্য মাত্র এক হাজার ১০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল। অর্থাৎ, এবার প্রায় এক হাজার ২০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হবে।
গত বুধবার ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে দ্রুত এলএনজি কেনার অনুমোদন দেয়া হয়। পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা জানান, “যুক্তরাষ্ট্রের গানভোর গ্রুপ থেকে একটি এলএনজি কার্গো কেনা হবে। প্রতি ইউনিটের খরচ হবে ২৮ দশমিক ২৮ ডলার। এছাড়া ভিটল কোম্পানি থেকে আরেকটি কার্গো ক্রয় করা হবে, যার প্রতি ঘনফুটের দাম ২৩ দশমিক শূন্য৮ ডলার। মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়ার পর এই দুই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন করা হয়েছে।”
গানভোরের কার্গোর দাম প্রায় এক হাজার ২৭৯ কোটি টাকা, যা চলতি বছরের জানুয়ারিতে একই ধরনের চালানের জন্য প্রায় ৫০০ কোটি টাকা হয়েছিল। গানভোরের কার্গো ১৫ বা ১৬ মার্চ বাংলাদেশে পৌঁছাবে। ভিটলের চালান ১৮ বা ১৯ মার্চ দেশের পোর্টে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
এরফানুল হক, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান, আগেই জানিয়েছিলেন, মার্চে নির্ধারিত চারটি এলএনজি কার্গো ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। তবে, ১৫ এবং ১৮ মার্চ আসার কথা থাকা আরও দুটি জাহাজ এখনও আটকে রয়েছে। এই কারণে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে মঙ্গলবার ও বুধবার দুই দফা দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল, কিন্তু এতে কোনও প্রার্থী অংশ নেয়নি। পরে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে দুই কার্গো কিনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।
এলএনজি ক্রয় সংক্রান্ত তথ্য টেবিলে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| ক্রয়কৃত এলএনজি কার্গো | দুইটি | গানভোর ও ভিটল থেকে |
| মোট ব্যয় | প্রায় ২৩০০ কোটি টাকা | গত মাসের তুলনায় দ্বিগুণ |
| গানভোরের কার্গো মূল্য | ২৮.২৮ ডলার/মিলিয়ন বি.টি.ইউ | প্রায় ১২৭৯ কোটি টাকা |
| ভিটলের কার্গো মূল্য | ২৩.০৮ ডলার/মিলিয়ন বি.টি.ইউ | আনুমানিক ১০২১ কোটি টাকা |
| আগমনের সম্ভাব্য তারিখ | গানভোর: ১৫-১৬ মার্চ, ভিটল: ১৮-১৯ মার্চ | বাংলাদেশে |
| মন্ত্রিসভার অনুমোদন | রয়েছে | দ্রুত ক্রয়ের জন্য |
| ক্রয়ের কারণ | সময়মতো সরবরাহের ব্যর্থতা | জ্বালানি সংকট মোকাবিলা |
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ার কারণে সরাসরি স্পট মার্কেট থেকে ক্রয় করা সরকারকে স্বল্পমেয়াদে জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় সহায়তা করবে। তবে, দীর্ঘমেয়াদে দেশে আরও স্থিতিশীল এলএনজি চুক্তি ও স্থানীয় উৎপাদনের ওপর নির্ভরতা বাড়ানো অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
এই ক্রয় সিদ্ধান্তই প্রমাণ করছে, জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় সরকার তৎপর এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে।